নবান্নে শুভেন্দুর মুখোমুখি অভয়ার মা, ফেসবুকে মমতাকে তীব্র খোঁচা

নবান্নে শুভেন্দুর মুখোমুখি অভয়ার মা, ফেসবুকে মমতাকে তীব্র খোঁচা

আর জি কর মামলার ফাইল নতুন করে খুলতেই রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বড়সড় আলোড়ন তৈরি হয়েছে। এই আবহে সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন আর জি কর কাণ্ডে মৃত তরুণী চিকিৎসকের মা তথা জলহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি।

‘দুজনেই সর্বহারা’, বিস্ফোরক ফেসবুক পোস্ট

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরেই নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে ক্ষোভ ও কটাক্ষ উগরে দেন রত্না দেবনাথ। তিনি লেখেন, “আজ আমি এখন নবান্নের চোদ্দ তলায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে। মুখ্যমন্ত্রীর নাম শুভেন্দু অধিকারী। সততার শক্তি অনেক।” এর পরেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে নিশানা করে তিনি যোগ করেন, “আজ আমি এবং মমতা দুজনেই সর্বহারা। আমি একমাত্র মেয়েকে হারিয়েছি, মানুষের জন্য কাজ করার প্রতিজ্ঞায় ব্রতী হয়েছি। আর মমতা তাঁর চোদ্দ তলার গদি হারিয়েছেন।” নিজের পোস্টে নিজেকে ‘ডা. দেবনাথের গর্বিত মা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আগামী দিনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর ‘অপরাধী টিম’-এর আরও করুণ পরিণতি দেখতে পাওয়া যাবে।

নতুন করে ফাইল ওপেন ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই বৈঠকের নেপথ্যে রয়েছে আর জি কর মামলার সাম্প্রতিক কিছু বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর আর জি কর মামলার ফাইল পুনরায় খোলা হয়েছে। এই মামলায় অভিযুক্ত অভীক দের বিরুদ্ধে থ্রেট কালচার এবং প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। বিশেষ করে অভয়া কাণ্ডের সময় সেমিনার রুমে অভীকের উপস্থিতি এবং সার্ভিস কোটায় তাঁর এসএসকেএমে স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ পাওয়া নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠকের পর আর জি কর মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় আরও গতি আসতে পারে। একদিকে রাজ্যপালের কড়া পদক্ষেপ এবং অন্যদিকে নির্যাতিতার মায়ের নবান্ন সফর স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বর্তমান সরকার এই মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। একইসঙ্গে, রত্না দেবনাথের এই প্রকাশ্য রাজনৈতিক আক্রমণ রাজ্যের বিরোধী শিবিরের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *