ভাঙল নীরবতা, ফলতার প্রাক্তন বিডিও শানু বক্সীর মায়ের আকুল কান্নায় নতুন মোড় জমি কেলেঙ্কারিতে

ভাঙল নীরবতা, ফলতার প্রাক্তন বিডিও শানু বক্সীর মায়ের আকুল কান্নায় নতুন মোড় জমি কেলেঙ্কারিতে

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার জমি দুর্নীতি ও আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় এবার এক চাঞ্চল্যকর অধ্যায়ের সূচনা হলো। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত, ফলতার প্রাক্তন বিডিও শানু বক্সীর মা শঙ্করী বক্সী অবশেষে মেয়ের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলেছেন। মেটেলির একটি জীর্ণ টালির এক চালা বাড়িতে বসে কান্নাভেজা গলায় তিনি দাবি করেছেন যে, তাঁর মেয়ে সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার বানিয়ে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে।

তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল সম্পত্তি গড়ার অভিযোগে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই বিডিও-র পারিবারিক দারিদ্র্যের এই ছবি নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। ২০০৮ সালে বাবার মৃত্যুর পর চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েও শানু যেভাবে কষ্ট করে পড়াশোনা চালিয়ে ডব্লিউবিসিএস (WBCS) অফিসার হয়েছিলেন, সেই লড়াইয়ের কথাও উল্লেখ করেছেন তাঁর মা।

রাজনৈতিক প্রভাব ও পদপ্রাপ্তির বিতর্ক

তদন্তকারীদের নজরে থাকা শানু বক্সীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ফলতায় কর্মরত থাকাকালীন তিনি শাসকদলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় বেনিয়ম প্রশ্রয় দিয়েছিলেন। এমনকী ২০১৯ সালে তাঁর কর্মজীবন শুরুর পর থেকেই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পদ পাওয়ার একটি স্থানীয় অভিযোগও মাথাচাড়া দিয়েছে। নিন্দুকদের দাবি, ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী তাঁর বিডিও পদ পাওয়ার কথা ছিল না, কোনো এক অদৃশ্য হাত তাঁর নম্বর বাড়িয়ে দিয়েছিল। তবে এই দাবির সপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি প্রমাণ মেলেনি।

প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি

এই হাইপ্রোফাইল দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক যোগসূত্রের কঙ্কালসার চেহারাটি স্পষ্ট হচ্ছে। শানু বক্সীর মায়ের এই আবেগঘন বয়ান জনমানসে কিছুটা সহানুভূতি তৈরি করলেও, প্রশাসনিক স্তরে ওঠা গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগের গুরুত্ব কমছে না। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিডিও-র পারিবারিক অস্বচ্ছলতার এই খতিয়ান যদি সত্য হয়, তবে বিপুল পরিমাণ বেআইনি অর্থ আসলে কোথায় গেল এবং এর পেছনে আরও বড় কোনো মাথার হাত রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করাই এখন তদন্তকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সত্য উদ্ঘাটনে এখন নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *