অভিষেকের বাড়িতে আকস্মিক পুলিশি অভিযান, শান্তিনিকেতন থেকে উদ্ধার মনিটর
.jpeg.webp?w=1200&resize=1200,675&ssl=1)
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যা্যের হরিশ মুখার্জি রোডের বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-এ সোমবার দুপুরে আকস্মিক অভিযান চালাল পুলিশ। সাধারণ ও সাদা পোশাকের বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী আকস্মিকভাবে এই ভবনে প্রবেশ করেন। কিছু ক্ষণ তল্লাশির পর তাঁরা ভেতর থেকে একটি মনিটর নিয়ে বেরিয়ে যান এবং সেটি ‘কলকাতা পুলিশ’ লেখা একটি সাদা গাড়িতে তুলে নিয়ে রওনা দেন। এই অভিযানের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে লালবাজারের শীর্ষ কর্তারা এখনও কোনো স্পষ্ট তথ্য দেননি, যা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র ধন্দ।
লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস যোগ ও পুরসভার নোটিস
পুলিশের বিদায়ের পরপরই ওই ভবনের গ্যারেজ থেকে একটি গাড়ি বের হতে দেখা যায়, যা ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার নামে নথিভুক্ত। উল্লেখ্য, ‘শান্তিনিকেতন’ বাড়িটিও পুরসভার খাতায় এই সংস্থার নামেই রয়েছে। সম্প্রতি কলকাতা পুরসভা এই সম্পত্তি এবং অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে দুটি পৃথক নোটিস পাঠিয়েছে। পুরসভার দাবি, পুরনো কাঠামো ভেঙে নতুন ভবন গড়া হলেও কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি রয়েছে এবং নথিভুক্ত মালিক সংস্থার পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিরা সেখানে বসবাস করছেন। এই বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থা পুরসভার কাছে ১০ দিনের সময় চেয়েছে।
নিরাপত্তা হ্রাস ও রাজনৈতিক প্রভাব
সাম্প্রতিক সময়ে অভিষেকের দীর্ঘ ১০ বছরের ‘জ়েড প্লাস’ নিরাপত্তা, অতিরিক্ত পাইলট কার ও বাড়ির সামনের উচ্চমানের স্ক্যানারসহ অতিরিক্ত নিরাপত্তা বলয় ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করে নিয়েছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গাইডলাইন অনুযায়ী বর্তমানে তিনি কেবল একজন সাধারণ সাংসদের নিরাপত্তা পাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা বলয় প্রত্যাহারের পর সরাসরি বাসভবনে পুলিশি প্রবেশ এবং কর্পোরেট নথিপত্র নিয়ে পুরসভার কড়াকড়ি অভিষেকের ওপর প্রশাসনিক চাপ বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত। বেআইনি নির্মাণ ও কর সংক্রান্ত জটিলতার তদন্তেই এই মনিটরটি বাজেয়াপ্ত করা হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।