পুলিশের পকেটে হাত, গ্যাংস্টারের ডেরায় অপমান! সাসপেন্ড ২ আইসি

পুলিশের পকেটে হাত, গ্যাংস্টারের ডেরায় অপমান! সাসপেন্ড ২ আইসি

খাকি উর্দির এমন অসহায় আত্মসমর্পণ আগে দেখেনি বিহার! গ্যাংস্টারের ডেরায় তল্লাশি চালাতে গিয়ে উল্টে দুষ্কৃতীদের হাতেই ‘চেকিং’-এর মুখে পড়লেন খোদ পুলিশ কর্মীরা। বিহারের পাটনায় ঘটা এই নজিরবিহীন ও চরম লজ্জাজনক ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। খোদ রক্ষকদের এই চরম লাঞ্ছনার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। কর্তব্যে গাফিলতি ও শৃঙ্খলভঙ্গের অভিযোগে ইতিমধ্যেই পাটনার দুই থানার আইসি তথা এসএইচও-কে সাসপেন্ড করেছেন পাটনার সিনিয়র এসপি।

অপরাধীদের ডেরায় উলটপুরাণ

ঘটনাটি ঘটেছে পাটনার নওরঙ্গ জালালপুর গ্রামে। স্থানীয় সূত্রের খবর, ওই এলাকার কুখ্যাত ‘সোনু-মনু’ গ্যাংয়ের ডেরায় হানা দিতে গিয়েছিল পুলিশ বাহিনী। কিন্তু সেখানে গিয়ে অপরাধীদের গ্রেফতার করা তো দূরের কথা, উল্টে চরম হেনস্থার মুখে পড়তে হয় পুলিশকে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, একটি বাড়ির দরজায় লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন পুলিশ কর্মীরা। আর গ্যাংস্টারের বাড়ির লোক ও সমর্থকরা রীতিমতো দাদাগিরি চালিয়ে একে একে তল্লাশি করছে তাঁদের। পুলিশ কর্মীরা কোমরে কোনও অস্ত্র বা লুকানো জিনিস নিয়ে ভেতরে ঢুকছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার পরই তাঁদের ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। আর পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও সেই নির্দেশ মুখ বুজে মেনে হাত তুলে তল্লাশি করতে দিচ্ছেন।

হামলার সূত্রপাত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

এই ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার সন্ধ্যায়, যখন স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান মুকেশ সিংকে লক্ষ্য করে দু’রাউন্ড গুলি চালায় সোনু-মনু গ্যাংয়ের দুষ্কৃতীরা। মুকেশ সিং অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। এর আগে এলাকায় পুলিশি অভিযানের প্রশংসা করে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন তিনি। সেই আক্রোশেই এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। মুকেশের এফআইআর-এর ভিত্তিতেই পুলিশ বাহিনী সোনু-মনুদের পাকড়াও করতে ওই গ্রামে হানা দিয়েছিল। কিন্তু ততক্ষণে দুই ভাই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং বাড়ির মহিলারা পুলিশকে দরজায় আটকে তল্লাশি করতে শুরু করে।

এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই বিহার পুলিশের সম্মান ও ভাবমূর্তি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাটনার সিনিয়র এসপি কার্তিকী কে শর্মা তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিয়ে পাঁচমহলা থানার এসএইচও কুন্দন কুমার এবং হাতিদহ থানার এসএইচও রঞ্জন কুমারকে সাসপেন্ড করেছেন।

আইনশৃঙ্খলার চরম সংকট

এই নজিরবিহীন ঘটনা বিহারের আইনশৃঙ্খলার কঙ্কালসার রূপটিকে ফের একবার সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। যে পুলিশের ওপর আমজনতার সুরক্ষার দায়িত্ব, তারা নিজেরাই যদি অপরাধীদের ডেরায় গিয়ে এভাবে আত্মসমর্পণ করে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সম্পূর্ণ বিঘ্নিত হবে। এই ঘটনা অপরাধীদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, খাকি উর্দির এই অসহায়তা রাজ্যের আইন ও শাসনের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *