মণিপুরে বড়সড় সাইবার ক্র্যাকডাউন, ৫ হাজারেরও বেশি উস্কানিমূলক পোস্ট চিহ্নিত করে কড়া অ্যাকশন পুলিশের

মণিপুরে বড়সড় সাইবার ক্র্যাকডাউন, ৫ হাজারেরও বেশি উস্কানিমূলক পোস্ট চিহ্নিত করে কড়া অ্যাকশন পুলিশের

মণিপুরের দীর্ঘমেয়াদী জাতিগত হিংসার আবহে সমান্তরালভাবে চলা ডিজিটাল যুদ্ধ রুখতে বড়সড় সাফল্য পেল রাজ্য পুলিশ। ২০২৩ সালের মে মাসে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা শুরু হওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে ভুয়ো খবর, বিকৃত ভিডিও এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়ানোর ছক কষা হচ্ছিল। সোমবার মণিপুরের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (ডিজিপি) রাজীব সিং এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে এ যাবৎ ৫,৪০৬টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও উস্কানিমূলক পোস্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। যার মধ্যে ৩,২০০টি পোস্ট ইতিমধ্যেই মুছে ফেলা হয়েছে এবং উস্কানি ছড়ানোর অভিযোগে ১৮৭টি পেজ ও প্রোফাইল সম্পূর্ণ ব্লক করেছে প্রশাসন।

যৌথ সাইবার অপারেশন ও আধুনিকীকরণ

ভার্চুয়াল দুনিয়ায় হিংসার এই আগুন নেভাতে দিল্লির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে মণিপুর পুলিশ। রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি দফতর এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) সাইবার সেলের সমন্বয়ে এই ক্ষতিকর পোস্টগুলো ইন্টারনেট থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, বিভ্রান্তি দূর করতে পুলিশ নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলের মাধ্যমে নিয়মিত সত্যতা যাচাই ও স্পষ্টীকরণ জারি করছে।

ডিজিটাল নজরদারির পাশাপাশি গ্রাউন্ড জিরোতেও পরিকাঠামো জোরদার করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক মণিপুর পুলিশের আধুনিকীকরণ ও ‘স্মার্ট পুলিশিং’-এর জন্য ১৯৬.৬১ কোটি টাকা অনুমোদন করে। সেই বরাদ্দের আওতায় সোমবার মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং ৪৭৭টি নতুন পুলিশ যান ও সাঁজোয়া গাড়ির ফ্ল্যাগ অফ করেন। এই গাড়িগুলোর ৫৪ শতাংশ পাহাড়ি জেলাগুলোতে এবং বাকি অংশ সমতল উপত্যকা ও টেকনিক্যাল ইউনিটগুলোর সুরক্ষায় মোতায়েন করা হবে, যা পুলিশের যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমিয়ে আনবে।

বিশেষ প্রশিক্ষণ ও তোলাবাজি বিরোধী অভিযান

বাহিনীর দক্ষতা বাড়াতে ২০২৫ সালের জুন মাসে জাতীয় সুরক্ষা গার্ডস বা এনএসজি (NSG)-র সঙ্গে বিশেষ চুক্তি করেছে মণিপুর পুলিশ, যার অধীনে পুলিশকর্মীদের বিশেষ রণকৌশলের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, হিংসার সুযোগ নিয়ে গজিয়ে ওঠা অপরাধ চক্র দমনে একটি বিশেষ ‘অ্যান্টি-এক্সটর্শন সেল’ গঠন করে পাহাড়ি ও সমতল এলাকা মিলিয়ে এ যাবৎ ১,০০০-এরও বেশি তোলাবাজ ও দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

২০২৩ সালের মে মাস থেকে শুরু হওয়া এই জাতিগত হিংসায় মণিপুরে এখনও পর্যন্ত ২৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানো রুখতে ডিজিটাল ও স্থলপথ— দুই স্তরেই মণিপুর প্রশাসন এখন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *