তীব্র তাপপ্রবাহে স্বস্তি পেতে ঘরোয়া টোটকা, শুধু পা ভিজিয়েই কমান শরীরের তাপমাত্রা!

তীব্র তাপপ্রবাহে স্বস্তি পেতে ঘরোয়া টোটকা, শুধু পা ভিজিয়েই কমান শরীরের তাপমাত্রা!

দেশজুড়ে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। ঘরের বাইরে বের হলেই দেখা দিচ্ছে মাথা ঘোরা, ক্লান্তি ও চরম অস্বস্তি। এমনকি ঘরের ভেতরেও স্বস্তি মিলছে না। এই পরিস্থিতিতে শরীরকে দ্রুত ঠান্ডা রাখতে চিকিৎসকেরা এক অভিনব ও সহজ ঘরোয়া উপায়ের পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তীব্র গরমে এসি ছাড়াই শরীর ঠান্ডা রাখার এক দারুণ সমাধান লুকিয়ে রয়েছে সাধারণ ঠান্ডা জলে পা ডুবিয়ে রাখার অভ্যাসে। শুনতেও অবাক লাগলেও, এই পদ্ধতি শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমিয়ে হিট এগ্জশনের ঝুঁকি দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর।

বিজ্ঞানসম্মত কারণ ও কার্যকারিতা

চিকিৎসকদের মতে, মানুষের পায়ের ত্বকের ঠিক নিচেই রয়েছে অসংখ্য রক্তনালী। যখন গোড়ালির ওপর পর্যন্ত ঠান্ডা জলে পা ডুবিয়ে রাখা হয়, তখন সেই নালীর ভেতরের রক্ত দ্রুত ঠান্ডা হতে শুরু করে। পরবর্তীতে এই ঠান্ডা রক্ত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তীব্র গরমে যখন শরীরের নিজস্ব কুলিং সিস্টেম বা ঘাম নিঃসরণ প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন এই পদ্ধতিটি শরীরকে তাৎক্ষণিক আরাম দেয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার জল শরীরের অতিরিক্ত তাপ কমাতে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী। তবে চিকিৎসকেরা এক্ষেত্রে অতিরিক্ত কনকনে বা বরফ-ঠান্ডা জল ব্যবহার করতে নিষেধ করছেন, কারণ তা রক্তনালী সঙ্কুচিত করে উল্টো অস্বস্তি বাড়াতে পারে।

ঝুঁকি ও সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা

এই ঘরোয়া পদ্ধতিটি মূলত রোদে ঘুরে কাজ করা মানুষ, অ্যাথলিট, প্রবীণ এবং যাঁদের বাড়িতে এসি নেই, তাঁদের জন্য দারুণ উপকারী। আরাম পেতে ১০ থেকে ২০ মিনিট সাধারণ ঠান্ডা জলে পা ডুবিয়ে রাখাই যথেষ্ট। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে কেবল পা ঠান্ডা রাখাই শেষ কথা নয়, প্রয়োজন বাড়তি সচেতনতা। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী মহিলা এবং হৃদরোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে হিটওয়েভ দ্রুত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, বিভ্রান্তি, দ্রুত হৃদস্পন্দন, বমিভাব কিংবা হঠাৎ ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো হিটস্ট্রোকের লক্ষণ দেখলে অবিলম্বে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত। তীব্র গরমের হাত থেকে বাঁচতে এই ঘরোয়া উপায়ের পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল পান করা এবং ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরা অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *