আমেরিকার বাজারে আগুন, কিন্তু ভারতের জন্য এখনও সুখবর কেন?

আমেরিকার বাজারে আগুন, কিন্তু ভারতের জন্য এখনও সুখবর কেন?

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে গোটা বিশ্বের জ্বালানির বাজারে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক স্তরে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে পেট্রল ও ডিজেলের দাম হুহু করে বাড়ছে। আমেরিকার মতো শক্তিশালী অর্থনীতিতেও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি প্রায় ৫০ শতাংশ ছুঁয়েছে। সেই তুলনায় ভারতে এখনও পর্যন্ত পেট্রপণ্যের দাম বৃদ্ধির হার বেশ কম হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাজারেও এর আঁচ এসে পড়েছে। বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন হতেই ভারতে গত ১০ দিনে চার দফায় লিটারপিছু মোট ৭ টাকা বেড়েছে পেট্রল ও ডিজেলের দাম।

বিশ্ব বাজারে তেলের সংকট ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আমেরিকায় পেট্রল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে যথাক্রমে ৪১ ও ৪৮ শতাংশ। ইউরোপের দেশ ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ডে এই বৃদ্ধির হার যথাক্রমে ৩১ ও ৩৪ শতাংশ এবং জার্মানিতে প্রায় ১৯ শতাংশ। এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে চিনে ২৪ শতাংশ, জাপানে ১৮ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় ৪৩ শতাংশ দাম বেড়েছে। ভারতের প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানে জ্বালানির দাম যথাক্রমে ৪১ এবং ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই আন্তর্জাতিক সংকটের মধ্যেও ভারতে এত দিন দাম অপরিবর্তিত ছিল। তবে নির্বাচন মিটতেই তেল বিপণন সংস্থাগুলি লোকসান সামাল দিতে দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে, যার ফলে দেশের বাজারে আপাতত ৪ শতাংশ দাম বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।

দফায় দফায় আরও দাম বাড়ার আশঙ্কা

ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশের বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করে এবং এর অর্ধেক আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীর জট কাটলেও ভারতে জ্বালানির দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ, বিগত কয়েক বছর ধরে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার ফলে তেল বিপণন সংস্থাগুলি বিপুল লোকসানের সম্মুখীন হয়েছে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সংস্থাগুলি লিটারপিছু অন্তত ৩৩ টাকা দাম বাড়াতে চায়। ইতিমধ্যেই ৭ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায়, লোকসান সামাল দিতে আরও প্রায় ২৪ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। একধাক্কায় এই বৃদ্ধি না করে সরকার ধাপে ধাপে দাম বাড়াবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে ভারতেও তেলের দাম সামগ্রিকভাবে ৩৩ শতাংশের কাছাকাছি বৃদ্ধি পাবে।

আমজনতার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব ও উভয় সংকট

জ্বালানি তেলের এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের বাজারে পরিবহণ খরচ একলাফে অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী যেমন মাছ, মাংস, দুধ, সবজি, ফল, চাল ও ডালের ওপর। নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একদিকে আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির হাত থেকে আমজনতাকে বাঁচানো, অন্যদিকে তেল সংস্থাগুলির বিপুল আর্থিক ক্ষতি রোধ করা— এই দুই বিপরীতমুখী পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বর্তমানে গভীর নীতিগত সংকটের মুখে পড়েছে সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *