নিটের প্রশ্নফাঁসে চরম ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট, পরীক্ষা বাতিলের পর এবার কি তবে উঠে যাচ্ছে এনটিএ?

মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই ২০২৬ সালের নিট পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে এবং নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এই প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় নিটের আয়োজক সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র ওপর চূড়ান্ত বিরক্তি প্রকাশ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পিএস নরসীমা মৌখিকভাবে অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, এনটিএ অতীতের ভুল থেকে কোনও শিক্ষাই নেয়নি। পূর্ববর্তী ভুলের পর পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও সুপারিশের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হলেও, কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে মনে করছে শীর্ষ আদালত।
এনটিএ বিলুপ্তির দাবি ও পদ্ধতিগত ব্যর্থতা
পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তের পর সুপ্রিম কোর্টে একগুচ্ছ পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউনাইটেড ডক্টরস ফ্রন্টের দায়ের করা একটি পিটিশনে এনটিএ-র ‘পদ্ধতিগত ব্যর্থতা’-র দিকে আঙুল তোলা হয়েছে। সংস্থাটির চরম গাফিলতির কারণে সেটিকে অবিলম্বে বিলুপ্ত বা তুলে দেওয়ার জোরালো আর্জি জানানো হয়েছে আদালতে। চিকিৎসকদের এই সংগঠনের দাবি, এনটিএ-র পরিবর্তে সংসদীয় আইনের মাধ্যমে একটি নতুন বিধিবদ্ধ জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা গঠন করা হোক। যে সংস্থার সুনির্দিষ্ট আইনি ক্ষমতা ও স্বচ্ছতার মানদণ্ড থাকবে এবং যা সরাসরি আইনসভার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। একই সঙ্গে আসন্ন জাতীয় স্তরের পরীক্ষাগুলোর তদারকির জন্য আদালত-পর্যবেক্ষিত কমিটি গঠনেরও দাবি উঠেছে।
২৩ লাখ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ ও সাংবিধানিক সংকট
ফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দায়ের করা অন্য একটি মামলায় আদালতের নজরদারিতে নতুন করে নিট পরীক্ষা আয়োজনের আবেদন জানানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য, নিট পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা বারবার নষ্ট হওয়ায় সংবিধানের ১৪ এবং ২১ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘিত হচ্ছে। এর ফলে দেশের প্রায় ২৩ লাখ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, এনটিএ-র মতো একটি বড় সংস্থা বর্তমানে সংসদের সরাসরি নজরদারি কিংবা কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা ক্যাগ-এর অডিটের আওতার বাইরে থেকে এত বড় পরীক্ষা পরিচালনা করছে, যা দেশের চিকিৎসাক্ষেত্র ও শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আদালতের এই কঠোর মনোভাবের পর পরীক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ এবং এনটিএ-র কার্যকারিতা নিয়ে বড়সড় আইনি ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।