“‘চোদ্দ তলার গদি হারিয়েছেন’ — শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা করেই কী ইঙ্গিত দিলেন অভয়ার মা?”

নবান্নের চোদ্দো তলায় রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দৃশ্যের সাক্ষী থাকল রাজনৈতিক মহল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করলেন বিধায়ক তথা আর জি কর কাণ্ডে নিহত চিকিৎসকের (অভয়া) মা রত্না দেবনাথ। বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিস্ফোরক পোস্ট করেন তিনি। যেখানে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করে তিনি লিখেছেন, “আজ আমি এবং মমতা দুজনেই সর্বহারা।” একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপরাধী চক্রের আরও করুণ পরিণতি দেখার জন্য সবাইকে অপেক্ষা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
নবান্নে রত্না-শুভেন্দু সাক্ষাৎ
আর জি করের নৃশংস ঘটনার পর থেকেই সুবিচারের দাবিতে রাজ্যজুড়ে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে এক বড় ভূমিকা নিয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর নবান্নের চোদ্দো তলায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে রত্না দেবনাথের এই বৈঠকটি প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজেকে ‘ডা. দেবনাথের গর্বিত মা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে রত্না দেবী ফেসবুকে লিখেছেন, সততার শক্তি অনেক বেশি। মমতার গদি হারানোর ঘটনাকে তিনি কার্যত তাঁদের ওপর হওয়া অন্যায়ের এক ধরনের প্রাকৃতিক বিচার হিসেবেই দেখছেন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, অভয়ার মায়ের এই মন্তব্য এবং নবান্নে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক স্পষ্ট করে দেয় যে, পূর্বতন শাসক দলের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কতটা গভীর ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতাচ্যুতিকে রত্না দেবী তাঁর ব্যক্তিগত সন্তান হারানোর বেদনার সঙ্গে তুলনা করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, ক্ষমতার অহংকার কীভাবে পতন ডেকে আনে। এই ঘটনার জেরে বিদায়ী তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর আইনি ও নৈতিক চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ‘অপরাধী টীম’-এর আরও করুণ পরিণতি দেখার যে বার্তা অভয়ার মা দিয়েছেন, তা আগামী দিনে আর জি কর মামলার তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে নতুন সরকারের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক তাগিদ তৈরি করবে।