‘আমি আর মমতা দু’জনই সর্বহারা’! নবান্নের ১৪ তলায় বসে তৃণমূল সুপ্রিমোকে তীব্র কটাক্ষ বিধায়ক রত্নার

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আরজি কর কাণ্ডে নিহত চিকিৎসকের (তিলোত্তমা) মা তথা জলহাটির নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথের একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সোমবার খোদ নবান্নের (Nabanna) ১৪ তলায় বসে একসময়ের দাপুটে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেছেন তিনি। নিজের যন্ত্রণার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রত্নাদেবী লিখেছেন, “আজ আমি এবং মমতা দু’জনই সর্বহারা।” তাঁর এই পোস্ট সমাজমাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।
নবান্নের ১৪ তলায় সন্তানহারা মা, কটাক্ষ মমতাকে
সোমবার নবান্নের ১৪ তলায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির ২৬ জন নবনির্বাচিত বিধায়ককে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকেই উপস্থিত ছিলেন জলহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ। একসময় এই ১৪ তলা থেকেই গোটা রাজ্যের প্রশাসনিক রাশ নিয়ন্ত্রণ করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ সেই চত্বরে বসেই নিজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত যাত্রার কথা তুলে ধরেন রত্নাদেবী। তিনি লেখেন, “আজ আমি এখন নবান্নের চোদ্দ তলায়। মুখ্যমন্ত্রীর নাম শুভেন্দু অধিকারী… তাঁর সঙ্গে বৈঠকে।” এর পরেই মমতাকে খোঁচা দিয়ে তিনি যোগ করেন, “সততার শক্তি অনেক। শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধৈর্য ধরে লড়াই করতে হয়।”
‘দু’জনই সর্বহারা’, ছত্রে ছত্রে ক্ষোভ
নিজের পোস্টে রত্না দেবনাথ যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নিজের তুলনা টেনেছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বেদনাদায়ক। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, মা হিসেবে তিনি তাঁর একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে সর্বহারা হয়েছেন। অন্যদিকে, অহংকার ও অন্যায়ের জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ তাঁর সাধের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও ‘গদি’ হারিয়ে সর্বহারা হয়েছেন। আরজি কর কাণ্ডের পর বিচারের দাবিতে যখন তিনি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন, তখন কোনো সুরাহা মেলেনি, উল্টে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হয়েছিল বলে অতীতে বারবার অভিযোগ তুলেছিলেন রত্নাদেবী। আজ ক্ষমতার অলিন্দে বসেই সেই অপমানের পাল্টা জবাব দিলেন এই বিজেপি বিধায়ক।
আরজি কর কাণ্ডের ফাইল খুলল শুভেন্দু সরকার
রাজ্যে ৪ মে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন বিজেপি সরকার আরজি কর-কাণ্ডের ফাইল নতুন করে খুলতে শুরু করেছে। আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ও অভীক দে-র মতো মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে।
এরই মধ্যে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ এই সংক্রান্ত আর একটি মামলায় ৩ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২৫ জুনের মধ্যে এই বিশেষ দলকে তদন্তের অগ্রগতির বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতের কাছে জমা দিতে হবে। নতুন সরকারের এই তৎপরতা এবং তিলোত্তমার মায়ের নবান্নে বসে এই গর্জন আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও তপ্ত করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।