বাংলায় এবার ‘হাফ-প্যান্ট মডেল’! পালাবদলের পরই দুষ্কৃতীদের শায়েস্তা করতে জোরদার অ্যাকশন

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর দুষ্কৃতী ও দুর্নীতিবাজদের দমনে এক নজিরবিহীন ও কঠোর রূপ ধারণ করেছে পুলিশ প্রশাসন। এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করা ‘ডন’ কিংবা প্রভাবশালীদের দাপট মাটিতে মিশিয়ে দিতে এবার যোগীরাজ্যের কায়দায় বাংলায় শুরু হয়েছে পুলিশের ‘হাফ-প্যান্ট মডেল’। উত্তর হাওড়ার পর এবার সাঁকরাইল— চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে পর পর দু’জন হাইপ্রোফাইল অভিযুক্তকে মাথা ন্যাড়া করে, শুধু স্যান্ডো গেঞ্জি ও হাফ-প্যান্ট (অন্তর্বাস) পরিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় ঘোরাল পুলিশ। প্রশাসনের এই ‘দাবাং’ অ্যাকশনে একসময়ের দাপুটে অপরাধীরা এখন কার্যত কেঁচো।

রাজপথে আন্ডারওয়্যারে ডন আকাশ সিং

২৪ মে, রবিবার উত্তর হাওড়ার রাস্তায় প্রথম দেখা যায় পুলিশের এই চরম রূপ। এলাকার কুখ্যাত ডন হিসেবে পরিচিত আকাশ সিংকে গেঞ্জি ও আন্ডারওয়্যার পরিয়ে, মাথা কামানো অবস্থায় প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটায় পুলিশ। আকাশের বিরুদ্ধে ২০২১ সালে পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালানো এবং ২০টিরও বেশি বোমাবাজি ও তোলাবাজির গুরুতর মামলা রয়েছে। সমাজবিরোধীদের কাছে কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতেই পুলিশ তাকে এভাবে জনসমক্ষে প্যারেড করায় বলে জানা গিয়েছে।

সাঁকরাইলে বিধায়ক-ঘনিষ্ঠ হোমগার্ডের দড়ি-বাঁধা প্যারেড

উত্তর হাওড়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৫ মে, সোমবার একই দৃশ্য দেখা গেল সাঁকরাইলে। সেখানে কয়েক কোটি টাকার তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত এক ট্রাফিক হোমগার্ডকে স্যান্ডো গেঞ্জি ও হাফ-প্যান্ট পরিয়ে, কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তা দিয়ে হাঁটায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। ধৃত ওই হোমগার্ডের নাম শাহিন মোল্লা ওরফে সানি, যিনি স্থানীয় তৃণমূল বিধায়িকা প্রিয়া পালের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। গত ২৩ মে সানিকে গ্রেফতারের পর আদালত তাকে ৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এরপরই সোমবার সাঁকরাইলের বেলতলা থেকে নলপুর পর্যন্ত বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় জওয়ানের পাহারায় তাকে রাস্তায় ঘোরানো হয়।

আইন এক, সদিচ্ছা আলাদা: প্রাক্তন পুলিশকর্তা

বিগত সরকারের আমলে যে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগে বিদ্ধ হতে হতো, নতুন বিজেপি সরকারের অধীনে তাদের এই আকস্মিক ও মারকুটে রূপ দেখে সাধারণ মানুষের একাংশ প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এই বিষয়ে প্রাক্তন পুলিশকর্তা অরিন্দম আচার্য বলেন, “আইন আগেও যা ছিল, এখনও তাই আছে। কিন্তু আগে সেগুলো ঘুমিয়ে ছিল, প্রয়োগ করা হতো না। নতুন সরকারের নীতি একটাই— যারা সমাজে আবর্জনা তৈরি করছিল, তাদের চরম শিক্ষা দিতে হবে। আগের সরকারের দুষ্কৃতীদের দমনের ইচ্ছা ছিল না, বর্তমান সরকারের সেই রাজনৈতিক সদিচ্ছা রয়েছে। তাই একই পুলিশ আজ কাজ করে দেখাচ্ছে।” প্রশাসনের এই নতুন মডেলে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি বাড়লেও, আমজনতার মনে স্বস্তি ফিরছে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *