স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডসে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি! ‘স্টোলন’ নিয়ে কী বললেন অভিষেক?

চেতক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর মঞ্চে ইতিহাস গড়েছে স্বাধীন ওটিটি চলচ্চিত্র ‘স্টোলন’। সেরা ওটিটি ফিল্ম, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতা এবং সেরা চিত্রনাট্যসহ মোট চারটি প্রধান বিভাগে পুরস্কার জিতে নিয়েছে এই ছবি। বড় ব্যানারের চকমকানি কিংবা বাণিজ্যিক নিশ্চয়তা ছাড়াই এই চলচ্চিত্রের এমন অভাবনীয় সাফল্য বিনোদন দুনিয়ায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ছবিটির এই রূপকথার মতো যাত্রার পেছনে জড়িয়ে রয়েছে এক গভীর আবেগ ও তীব্র লড়াইয়ের গল্প।
অজানার বুকে বিশ্বাসের জয়
স্বাধীন বা ইন্ডিলেভেল চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা। ‘স্টোলন’ ছবির মূল চরিত্র ও অভিনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এই ছবির সঙ্গে জড়িয়ে ছিল কেবলই অজানার এক চরম সংকা। বড় প্রযোজনা সংস্থার মতো এখানে কোনো পূর্বনির্ধারিত বিপণন কৌশল বা মুক্তির গ্যারান্টি ছিল না। ছবিটির নির্মাণ পর্ব এমন এক পরিস্থিতিতে হয়েছিল যখন কলাকুশলীরা জানতেনই না যে কাজটি আদৌ কোনোদিন দর্শকের সামনে আলোর মুখ দেখবে কি না। এই প্রবল অনিশ্চয়তার মধ্যেও কেবল সততা ও কাজের প্রতি নিখাদ ভালোবাসাকে সম্বল করে এগিয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। অধিকাংশ অপরিচিত মানুষ একসঙ্গে কাজ করতে এসে এক গভীর বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন, যা স্বাধীন সিনেমার এক অন্যতম সুন্দর দিক হিসেবে উঠে এসেছে।
বহুমাত্রিক অভিনয় ও আগামী দিনের প্রভাব
‘স্ত্রী’র হাস্যরসাত্মক চরিত্র কিংবা ‘পাতাল লোক’-এর কুখ্যাত অপরাধীর ভূমিকা, সবক্ষেত্রেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। ‘স্টোলন’ ছবিতে তাঁর সংবেদনশীল ও ভঙ্গুর চরিত্রটি দর্শকদের আবেগঘন মনস্তত্ত্বকে স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছে। এই ছবির সাফল্য চলচ্চিত্র শিল্পে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এটি প্রমাণ করেছে যে, বিপুল বাজেট বা তারকা খচিত প্রচার ছাড়াও কেবল ভালো গল্প, আন্তরিক নির্মাণ এবং অভিনয়ের সততা থাকলে যেকোনো ছোট ছবিও জাতীয় স্তরে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি ছিনিয়ে নিতে পারে। এই জয় আগামী দিনে নতুন ও স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের বড় ঝুঁকিপূর্ণ প্রজেক্ট হাতে নেওয়ার সাহস জোগাবে এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ভিন্নধর্মী কন্টেন্টের বাজারকে আরও শক্তিশালী করবে।