ব্যক্তিতন্ত্রের অবসান, রাজ্যবাসীর ক্ষোভ প্রশমনে শুভেন্দুর নয়া দাওয়াই ‘আপনার সরকারকে বলুন’

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত মিলল। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের জনপ্রিয় জনসংযোগ কর্মসূচি ‘মুখ্যমন্ত্রীকে বলুন’-এর সমাপ্তি ঘটিয়ে এবার চালু হচ্ছে ‘আপনার সরকারকে বলুন’। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপত্তিতেই এই কর্মসূচির নামবদল করা হয়েছে। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের পরামর্শে এই নতুন নামকরণ চূড়ান্ত করেছে রাজ্য সরকার। আগামী সপ্তাহ থেকেই নতুন নম্বরের মাধ্যমে এই পরিষেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য সরাসরি জনগণের সমস্যা শুনে তার দ্রুত সমাধান করা।
নামবদলের নেপথ্য কারণ ও দৃষ্টিভঙ্গি
তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে ২০২৩ সালে শুরু হওয়া ‘মুখ্যমন্ত্রীকে বলুন’ কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারতেন। তবে নতুন সরকারের দাবি, পূর্বতন ব্যবস্থায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সমস্যার বাস্তব সুরাহা মেলেনি, উল্টে এটি ব্যক্তির প্রচারের মাধ্যম হয়ে উঠেছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মতে, এই নামবদলের মাধ্যমে ‘আমি’ নয়, ‘আমরা’—অর্থাৎ সমষ্টিগত শাসনব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটবে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ‘মুখ্যমন্ত্রীকে বলুন’ থেকে ‘আপনার সরকারকে বলুন’ এই রূপান্তরের মাধ্যমে ব্যক্তিপূজার অবসান ঘটিয়ে সরকার যে জনগণের, সেই দৃষ্টিভঙ্গিই স্পষ্ট করতে চাইছে নতুন প্রশাসন।
দল ও সরকারের সমন্বয় এবং সম্ভাব্য প্রভাব
এই নতুন কর্মসূচির পরিকল্পনায় রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে শাসকদলের এক অভূতপূর্ব সমন্বয় দেখা গেছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন যে, প্রকল্পের নামকরণের জন্য তিনি দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের পরামর্শ চেয়েছিলেন এবং তাঁর দেওয়া নামই সরকারিভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন দল ও সরকারের সম্পর্ক মজবুত হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ নিরসনে প্রশাসন আরও বেশি দায়বদ্ধ থাকবে। তবে কেবল নাম ও নম্বর পরিবর্তন করলেই চলবে না, পূর্বতন সরকারের মতো অভিযোগের পাহাড় যাতে জমে না থাকে এবং সত্যিই মানুষের সমস্যার সমাধান হয়, তা নিশ্চিত করাই হবে শুভেন্দু সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।