সোশ্যাল মিডিয়ায় আরশোলা ঝড়, তারই মাঝে এবার বিজ্ঞানের ডেরায় এই পতঙ্গকে নিয়ে যুগান্তকারী আবিষ্কার

ভারতের রাজনৈতিক অন্দরমহলে এই মুহূর্তে তুমুল শোরগোল জাগিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি নামের একটি নতুন অনলাইন মঞ্চ। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় পথ চলা শুরু করা এই আরশোলা পার্টি ইনস্টাগ্রামে অনুগামীর সংখ্যার নিরিখে খোদ ভারতীয় জনতা পার্টিকেও (বিজেপি) পিছনে ফেলে দিয়েছে। এই রাজনৈতিক ডামাডোল এবং নানামুখী বিতর্কের আবহেই এবার ভারতের বিজ্ঞানীদের হাত ধরে আরশোলাকে নিয়ে সামনে এলো এক অভাবনীয় ও চমকপ্রদ তথ্য।
ভারতের প্রথম ডিএনএ বারকোড লাইব্রেরি
সাধারণ মানুষের কাছে চরম ঘৃণা আর আতঙ্কের প্রতীক হলেও কলকাতার ‘জুওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’ (জেডএসআই)-এর বিজ্ঞানীরা আরশোলার এক গোপন বংশলতিকা উন্মোচন করেছেন। জেডএসআই-এর পুনে ও চেন্নাই কেন্দ্র এবং পুনের অধ্যাপক রামকৃষ্ণ মোর কলেজের গবেষকদের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি হয়েছে দেশের প্রথম এবং বৃহত্তম ‘ডিএনএ বারকোড রেফারেন্স লাইব্রেরি’। আধুনিক আণবিক প্রযুক্তির সাহায্যে বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই ভারতীয় আরশোলাদের ১০০টিরও বেশি নিখুঁত ডিএনএ বারকোড সফলভাবে তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
লুকানো বৈচিত্র্য ও পরিবেশগত প্রভাব
এই গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে, ভারতের মাটিতে আরশোলার যে বিপুল বৈচিত্র্য রয়েছে, তা আগের সব ধারণাকে ছাড়িয়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা এমন কিছু সম্পূর্ণ দেশীয় বা ‘এন্ডেমিক’ প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন, যা পৃথিবীর আর কোথাও নেই। সাধারণ মানুষের ধারণা আরশোলা কেবলই ক্ষতিকর কীট, কিন্তু বিজ্ঞানীরা এই ভুল ভেঙে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে বন্য পরিবেশে থাকা আরশোলার সিংহভাগ প্রজাতিই প্রকৃতির পরম বন্ধু।
ডাইনোসরদের যুগেরও আগে থেকে পৃথিবীতে টিকে থাকা এই পতঙ্গ বন্য পরিবেশে ঝরে পড়া শুকনো পাতা ও জৈব পদার্থ দ্রুত পচিয়ে মাটিতে পুষ্টি উপাদানের পুনর্ব্যবহার সচল রাখে। বনাঞ্চলের খাদ্য শৃঙ্খল টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি পরিবেশের সূক্ষ্ম পরিবর্তনের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এদের ‘বায়ো-ইন্ডিকেটর’ বা প্রাকৃতিক সূচক হিসেবে গণ্য করা হয়।
যুগান্তকারী ডিএনএ বারকোডিং প্রযুক্তি
বিজ্ঞানীরা এই বিপুল বৈচিত্র্য চিহ্নিত করতে ‘ডিএনএ বারকোডিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন, যা সুপারমার্কেটের বারকোড স্ক্যানারের মতো কাজ করে। আরশোলার শরীর থেকে ক্ষুদ্র ডিএনএ সিকোয়েন্স সংগ্রহ করে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে তার প্রজাতি চিনে নেওয়া সম্ভব। ঐতিহাসিক ও ঔপনিবেশিক কাল থেকে ভারতের কীট-পতঙ্গ জগতের যে বিরাট অংশ অবহেলিত রয়ে গিয়েছিল, জেডএসআই-এর বিজ্ঞানীদের এই গবেষণা তা দূর করে ভারতের সামগ্রিক পতঙ্গ জীববৈচিত্র্যের ডিজিটাল ডেটাবেস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপন করল।