পকেটে টান আমজনতার, পেট্রল-ডিজেলের পর এবার মহার্ঘ্য সিএনজি

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের জ্বালানি বাজারে। সোমবার পেট্রল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির পর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এবার বাড়ানো হলো সিএনজি গ্যাসের দাম। গত ১১ দিনে এই নিয়ে চতুর্থবার সিএনজির মূল্যবৃদ্ধি ঘটল, যা আমজনতার দৈনন্দিন যাতায়াতের খরচকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
লাগামহীন গ্যাসের দাম, পকেটে কোপ যাত্রীদের
মঙ্গলবার থেকে প্রতি কেজি সিএনজি গ্যাসের দাম নতুন করে ২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এই দফায় বৃদ্ধির ফলে গত দু’সপ্তাহেরও কম সময়ে সিএনজির দাম কেজিপ্রতি মোট ১১ টাকা বেড়ে গেল। দিল্লিতে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজি ৮৩.০৯ টাকা। কলকাতায় মঙ্গলবার নতুন করে দাম না বাড়লেও এখানকার বাজারদর এমনিতেই বেশ চড়া, প্রতি কেজি ৯৩.৫০ টাকা। এর আগে গত ১৫ মে এক ধাক্কায় ৩ টাকা বৃদ্ধির পর শুক্র ও রবিবারও ১ টাকা করে দাম বাড়ানো হয়েছিল। সিএনজির এই লাগামহীন দাম বৃদ্ধির ফলে অটো, ট্যাক্সি এবং ছোট গাড়ির মতো গণপরিবহণের ভাড়া এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পেট্রল এবং ডিজেলের গ্রাফও ঊর্ধ্বমুখী
গ্যাসের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পেট্রল ও ডিজেলের দামও। গত ১৫ মে থেকে ২৫ মে-র মধ্যে চার দফায় জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি আড়াই টাকারও বেশি বেড়েছে। দফায় দফায় এই মূল্যবৃদ্ধির জেরে কলকাতায় বর্তমানে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম দাঁড়িয়েছে ১১৩.৫১ টাকা এবং ডিজেল বিকোচ্ছে ৯৯.৮২ টাকায়।
কারণ ও দূরপাল্লার সম্ভাব্য প্রভাব
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে যুদ্ধজনিত পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন তেলের দাম স্থির রাখার কারণে তেল সংস্থাগুলির যে বিপুল ক্ষতি হয়েছিল, তা সামাল দিতেই এই মূল্যবৃদ্ধি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহল সূত্রে খবর, ক্ষতি পুষিয়ে নিতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি আগামী দিনে জ্বালানির দাম আরও বাড়াতে পারে। সিএনজি এবং পেট্রল-ডিজেলের এই যৌথ মূল্যবৃদ্ধির ফলে কেবল গণপরিবহণই নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পরিবহণের খরচও বাড়বে, যার জেরে বাজারে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে।