SSKM, RG Kar-এ বড় সিদ্ধান্ত! কালার কোডেড iCard ধরবে দালাল চক্র

রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং দালাল-রাজের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল স্বাস্থ্য দফতর। এসএসকেএম এবং আরজি কর মেডিক্যাল কলেজসহ কলকাতার একাধিক শীর্ষ স্তরের সরকারি হাসপাতালে কর্মরত কর্মীদের জন্য ‘রঙ-ভিত্তিক’ বা কালার-কোডেড পরিচয়পত্র (iCard) চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিটোল করা এবং অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করাই এই নতুন ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য।
স্বাস্থ্য দফতরের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, হাসপাতালের অভ্যন্তরে নজরদারি ব্যবস্থা আরও কড়া করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ। নতুন এই নিয়মের ফলে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট অনুমোদিত কর্মীরাই তাঁদের জন্য বরাদ্দকৃত বিভাগে প্রবেশ করতে পারবেন। এর ফলে হাসপাতালের সাধারণ রোগী ও তাঁদের পরিজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বহিরাগতদের অনধিকার প্রবেশে লাগাম টানা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
কার জন্য কোন রঙ
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগের দায়িত্ব ও পদের ভিত্তিতে আলাদা আলাদা রঙের পরিচয়পত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি কর্মীদের জন্য কমলা, সহকারী অধ্যাপকদের জন্য বেগুনি এবং প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জন্য কালো রঙের কার্ড বরাদ্দ করা হয়েছে। একইভাবে নার্সরা পাবেন বাদামি, নিরাপত্তারক্ষীরা মেরুন এবং গ্রুপ-ডি কর্মীরা সবুজ রঙের পরিচয়পত্র ব্যবহার করবেন। এছাড়া পরিচ্ছন্নতা বা সাফাই কর্মীদের জন্য হলুদ এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিযুক্ত অস্থায়ী কর্মীদের জন্য নীল রঙের কার্ড নির্দিষ্ট করা হয়েছে। কর্তব্যরত অবস্থায় এই নির্ধারিত পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কার্যকরের প্রক্রিয়া ও প্রভাব
এই নতুন ব্যবস্থা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য রাজ্যের একাধিক বড় হাসপাতালকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে এসএসকেএম হাসপাতাল, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, এনআরএস, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ এবং শম্ভুনাথ পন্ডিত হাসপাতাল। নতুন পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে ও তদারকির জন্য প্রতিটি হাসপাতাল ভবনে একজন করে ‘নোডাল অফিসার’ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্রুত গতিতে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করতে হাসপাতালগুলোতে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য কারিগরি কর্মী মোতায়েন করছে ওয়েবএল (Webel)।
এই পদক্ষেপের ফলে হাসপাতালের সংরক্ষিত ও অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে সাধারণ মানুষের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগ, ল্যাবরেটরি বা আইসিইউ-র মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কারা যাতায়াত করছেন, তা দূর থেকেই রঙ দেখে চিনে নেওয়া সম্ভব হবে। ২৫ মে থেকে এই পরিচয়পত্র নিবন্ধনের কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী ২৮ মে-র মধ্যে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকমহল ও প্রশাসনের আশা, এই ডিজিটাল ও বর্ণভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু হলে দীর্ঘদিনের দালাল চক্রের অবসান ঘটবে এবং হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশ আরও সুরক্ষিত হবে।