“ইউনুসই চালাতেন ‘কিচেন ক্যাবিনেট’! প্রাক্তন বিদেশ উপদেষ্টার বিস্ফোরক দাবি”

“ইউনুসই চালাতেন ‘কিচেন ক্যাবিনেট’! প্রাক্তন বিদেশ উপদেষ্টার বিস্ফোরক দাবি”

মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সদ্যপ্রাক্তন অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরীণ অপশাসন ও সিদ্ধান্তহীনতার চাঞ্চল্যকর তথ্য এবার প্রকাশ্যে চলে এল। মাত্র তিনদিন আগে সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের সমালোচনার পর, এবার সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন প্রাক্তন বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তাঁর দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে একটি শক্তিশালী ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বা অভ্যন্তরীণ চক্র সক্রিয় ছিল, যারা পর্দার আড়াল থেকে মূল নীতিনির্ধারণ ও দেশ পরিচালনা করত।

স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও পদত্যাগের চেষ্টা

সোমবার বাংলাদেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তৌহিদ হোসেন অভিযোগ করেন, এই সাত সদস্যের কিচেন ক্যাবিনেটের কারণে অন্যান্য উপদেষ্টারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারতেন না। এমনকি খোদ বিদেশ মন্ত্রকের ওপরও একাধিক উপদেষ্টার অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব ও হস্তক্ষেপ ছিল। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির কারণে তিনি কাজের স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং অন্তত তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেও তা শেষ পর্যন্ত গৃহীত হয়নি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এই সরকার বড় ধরনের ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অন্ধকারে বিদেশ মন্ত্রক

সরকারের ভেতরে সমন্বয়হীনতার এক চরম দৃষ্টান্ত তুলে ধরে প্রাক্তন এই বিদেশ উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে আমেরিকার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি সই করে অন্তর্বর্তী সরকার। অথচ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই চুক্তি সম্পর্কে খোদ বিদেশ মন্ত্রকই সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিল। বাণিজ্য মন্ত্রক এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিলে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন, যা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অস্বচ্ছতার ইঙ্গিত দেয়।

ভূ-রাজনীতি ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের চ্যালেঞ্জ নিয়েও কথা বলেন তৌহিদ হোসেন। তাঁর মতে, দেশের রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগ এখনও পুরোপুরি ছিটকে যায়নি এবং আগামী নির্বাচনে তাদের ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের এই অভ্যন্তরীণ সংকটের পর বর্তমান প্রশাসনের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারসাম্য বজায় রাখা সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হতে চলেছে। এই মুহূর্তে আমেরিকা, চীন ও ভারতের মতো পরাশক্তিদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক সামলানোই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *