হোল্ডিং সেন্টার চালু হতেই আতঙ্ক, বাক্স-প্যাঁটরা নিয়ে হাকিমপুর সীমান্তে বাংলাদেশিদের লম্বা লাইন!

হোল্ডিং সেন্টার চালু হতেই আতঙ্ক, বাক্স-প্যাঁটরা নিয়ে হাকিমপুর সীমান্তে বাংলাদেশিদের লম্বা লাইন!

পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ শুরু হতেই সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রাজ্যে নতুন হোল্ডিং সেন্টার চালুর ঘোষণার পরপরই উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্তে দেখা গেছে দেশত্যাগের এক অভূতপূর্ব হিড়িক। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে এতদিন যাঁরা বিভিন্ন রাজ্যে লুকিয়ে কাজ করছিলেন, তাঁরা এখন শাস্তির ভয়ে তড়িঘড়ি বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পথ ধরেছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই হাকিমপুর চেকপোস্টে বাক্স-প্যাঁটরা ও পুঁটুলি নিয়ে শয়ে শয়ে বাংলাদেশি নাগরিককে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

কড়া পদক্ষেপের প্রভাব ও আইনি তৎপরতা

সম্প্রতি ভোট প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়েছিলেন, অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে সীমান্ত পার করে দেওয়া হবে। কেন্দ্রে নতুন সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই সেই প্রক্রিয়া কার্যকরের তৎপরতা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লেই তাঁদের সরাসরি বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। আর এই ফেরত পাঠানোর আগে সাময়িকভাবে রাখার জন্য কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা মেনে রাজ্যের জেলায় জেলায় চালু করা হয়েছে ‘হোল্ডিং সেন্টার’।

এই প্রশাসনিক ঘোষণার পরেই অবৈধভাবে বসবাসকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আইনি জটিলতা ও শাস্তির হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে সীমান্তমুখী হয়েছেন। লাইনে দাঁড়ানো একাধিক ব্যক্তি স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে এ দেশে এসে পরিচারিকা বা দোকানের কর্মচারীর মতো বিভিন্ন সাধারণ পেশায় যুক্ত ছিলেন। কিন্তু সরকারি কড়াকড়ির কারণে এ দেশে আর থাকা সম্ভব নয় বুঝেই তাঁরা স্বদেশে ফিরে যাচ্ছেন।

সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারি

হোল্ডিং সেন্টার চালুর এই সিদ্ধান্ত অনুপ্রবেশ রুখতে এবং অবৈধ বাসিন্দাদের চিহ্নিত করতে বড়সড় প্রভাব ফেলেছে। হাকিমপুর সীমান্তে ভিড় বাড়ায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকেও কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত ডিপোর্ট করার এই প্রক্রিয়া আগামী দিনে সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও জোরদার করবে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রবণতা অনেকটাই কমিয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *