হাওড়ার চাইল্ড হাসপাতালে তুমুল উত্তেজনা, প্রাক্তন মন্ত্রী ঘনিষ্ঠকে জুতোপেটা মহিলাদের

সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে বেআইনিভাবে হাসপাতাল চালানো এবং কর্মীদের লাগাতার হেনস্তার অভিযোগে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল হাওড়ার একটি চাইল্ড হাসপাতাল। মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের ভেতরই প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত প্রসেনজিৎ হাজরা নামের এক কর্মীকে জুতোপেটা ও বেধড়ক মারধর করেন ক্ষুব্ধ মহিলারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও নিয়োগ দুর্নীতি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে রেড ক্রস সোসাইটি ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে হাওড়ায় এই চাইল্ড হাসপাতালটি গড়ে ওঠে। শুরুতে হাওড়া পুরসভার প্রাক্তন পুর প্রশাসক ডা. সুজয় চক্রবর্তীর নেতৃত্বে হাসপাতালের কাজ সুষ্ঠুভাবে চললেও, পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, ডা. নিশীথ রঞ্জন চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই হাসপাতালের প্রশাসনিক রাশ চলে যায় অরূপ রায়ের অনুগামীদের হাতে। কোনো টেকনিক্যাল জ্ঞান বা যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে একাধিক কর্মী নিয়োগ করা হয় এবং হাসপাতালটিকে বেআইনিভাবে পরিচালনা করা হতে থাকে।
বিক্ষোভের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
হাসপাতালের বর্তমান অব্যবস্থা ও কর্মীদের ক্ষোভই এই নজিরবিহীন ঘটনার মূল কারণ। বিক্ষোভকারী মহিলা কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বেতন আটকে রাখা হয়েছে এবং প্রতিবাদ করলেই জুটছে মানসিক হেনস্তা ও হুমকি। হাসপাতালে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা যেমন নেই, তেমনই রেড ক্রসের বিল দেখিয়ে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ। ঘটনার জেরে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, একজন জনপ্রতিনিধির নাম জড়িয়ে এভাবে হাসপাতাল চত্বরে আইন হাতে তুলে নেওয়া এবং মারধরের ঘটনা এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।