যাদবপুরে কামড়-আতঙ্ক রুখতে এবার কুকুরের গলায় বিশেষ কলার

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একের পর এক পথকুকুরের কামড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনার পর বহিরাগত ও আবাসিক কুকুরের পার্থক্য নিয়ে ক্যাম্পাসে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবশেষে একটি অভিনব ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ক্যাম্পাসে চলমান এই অস্থিরতা কাটাতে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে থাকা প্রায় ৬০টি আবাসিক কুকুরকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হবে। এই উদ্দেশ্যে কুকুরগুলোর গলায় একটি নির্দিষ্ট কলার পরানো হবে, যেখানে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা থাকবে ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়’। এর ফলে কোন কুকুরগুলো ক্যাম্পাসের নিজস্ব আবাসিক আর কোনগুলো বাইরে থেকে ঢুকে পড়েছে, তা সহজেই নিরাপত্তারক্ষী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারবেন।
আতঙ্কের কারণ ও কর্তৃপক্ষের তৎপরতা
মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের খোলা চত্বরে বাইরে থেকে আসা কিছু হিংস্র কুকুরের উপদ্রব হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। ক্যাম্পাসের নিজস্ব কুকুরগুলো সাধারণত শান্ত স্বভাবের হলেও, বহিরাগত কুকুরের অনুপ্রবেশের ফলে শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটছে। এই নিরাপত্তা ঘাটতি দূর করতেই দ্রুত পরিচয় নির্ধারণের এই কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তায় সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কলার পরানো কুকুরগুলোকে সহজেই চেনা যাবে বলে বহিরাগত বা বিপজ্জনক কোনো কুকুর ক্যাম্পাসে ঢুকলে নিরাপত্তারক্ষীরা তাৎক্ষণিকভাবে সেটিকে তাড়িয়ে দিতে পারবেন। একই সঙ্গে, কুকুরপ্রেমী শিক্ষার্থী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যকার চলমান বাদানুবাদ ও বিতর্কের অবসান ঘটবে এবং ক্যাম্পাসে আবার স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরে আসবে।