টালমাটাল বাংলার রাজনীতি, বিজেপির সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় এক ডজন তৃণমূল সাংসদ!

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে পালাবদলের পর এবার জাতীয় স্তরেও বড়সড় রাজনৈতিক ভূমিকম্পের ইঙ্গিত মিলছে। দিল্লির অলিন্দে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে জোড়াফুল শিবিরে বড়সড় ভাঙনের গুঞ্জন। বিশেষ সূত্রের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তত ১২ জন সংসদ সদস্য (সাংসদ) গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়া অথবা বাইরে থেকে সমর্থন জানানোর সমস্ত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে ফেলেছেন। লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে এই সাংসদেরা এখন শুধু বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
তৃণমূলে ভাঙনের চওড়া ফাটল
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দেওয়া এই খবরের এখানেই শেষ নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, এই ১২ জনের বাইরেও আরও অন্তত ৬ জন তৃণমূল সাংসদ দলবদলের জন্য ‘ওয়েটিং লিস্ট’ বা অপেক্ষমান তালিকায় রয়েছেন। অর্থাৎ, সুযোগ এবং সঠিক সময় এলে তৃণমূলের মোট ১৮ জন সাংসদ দলত্যাগ করতে পারেন, যা বাংলার রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ঘটনা। রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদলের পর নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতেই তৃণমূলের এই জনপ্রতিনিধিরা বিরোধী শিবিরের দিকে পা বাড়িয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়ানোর কৌশল
সাংসদদের এই দলবদলের পরিকল্পনার পিছনে কাজ করছে সুনির্দিষ্ট আইনি ও রাজনৈতিক কৌশল। ভারতের কঠোর দলত্যাগ বিরোধী আইনের (Anti-Defection Law) হাত থেকে বাঁচতে এবং সাংসদ পদ টিকিয়ে রাখতে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার প্রয়োজন হয়। কোনো দলের আইনসভার মোট সদস্য সংখ্যার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ একযোগে দল ছাড়লে তবেই তাঁদের পদ খারিজ হয় না। সূত্রের খবর, এই আইনি জটিলতা এড়াতে এবং দলত্যাগ বিরোধী আইনকে ফাঁকি দিতেই প্রয়োজনীয় সংখ্যা নিশ্চিত করার ঘুঁটি সাজাচ্ছে রাজ্যের বর্তমান শাসক দল বিজেপি। এই ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারলে তৃণমূলের এই বড় অংশটি স্প্লিন্টার গ্রুপ বা দলছুট গোষ্ঠী হিসেবে আইনি বৈধতা পেয়ে যাবে।
জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
এই সম্ভাব্য দলবদল দিল্লির সংসদে যেমন তৃণমূলের শক্তি এক ধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে দেবে, তেমনই পশ্চিমবঙ্গেও তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংগঠনে বড়সড় ধস নামাতে পারে। ক্ষমতার হাতবদলের পর এটি হবে তৃণমূলের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা। অন্যদিকে, এই বিপুল সংখ্যক সাংসদকে নিজেদের শিবিরে টেনে নিতে পারলে সংসদে বিজেপির শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলায় তৃণমূলকে রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই কোণঠাসা করা সম্ভব হবে। এখন দেখার, বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব কবে এই দলবদলে চূড়ান্ত সিলমোহর দেয়।