আচমকা মোহনবাগান ছাড়লেন কুণাল ঘোষ, এক্স হ্যান্ডেলে চিঠি পোস্ট করে দিলেন বড় চমক

সোমবার বিকেলে বাংলার ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে মোহনবাগান ক্লাবের সহসভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল নেতা তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। নিজেই নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) ইস্তফার চিঠি পোস্ট করে এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি। ক্লাবের সভাপতি দেবাশিস দত্তকে পাঠানো সেই ইস্তফাপত্র সমাজমাধ্যমে আসতেই ময়দানের এই শতবর্ষ প্রাচীন ক্লাবে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তবে তাঁর এই সিদ্ধান্তের পিছনে কোনও রাজনৈতিক বা ক্লাবের অভ্যন্তরীণ চাপ নেই এবং সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন কুণাল ঘোষ।
আবেগঘন পোস্ট ও সবুজ-মেরুন অনুরাগ
ইস্তফা দেওয়ার খবরটি জানিয়ে কুণাল ঘোষ এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন যে, দু’দফায় এই ঐতিহ্যশালী ক্লাবের সহসভাপতি হতে পারায় তিনি ধন্য। চিঠির পাশাপাশি নিজের দুটি ছবিও পোস্ট করেছেন তিনি, যার একটি ১৯৮৫ সালের মোহনবাগান মাঠের এবং অন্যটি ২০২৫ সালের স্কটল্যান্ডের, যেখানে তাঁর পরনে রয়েছে মোহনবাগান ভক্ত লেখা পোশাক। ক্লাব সভাপতিকে পাঠানো ইস্তফাপত্রে সবুজ-মেরুন ক্লাবের প্রতি নিজের আজীবনের আবেগের কথা উজাড় করে দিয়েছেন তিনি। বাল্য ও কৈশোর থেকে এই ক্লাবের গ্যালারিতে সময় কাটানো এবং অতীতে ক্লাব যখন সাসপেনশনের মুখে পড়েছিল, তখন সমর্থকদের বিপুল সই সংগ্রহ করে দিল্লির এআইএফএফ (AIFF) দপ্তরে আন্দোলনের কথাও মনে করিয়েছেন তিনি। তাঁরই প্রস্তাবে ক্লাবে ‘স্পোর্টস লাইব্রেরি’ চালু করার জন্য সভাপতিকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি পদ ছাড়লেও আজীবন সাধারণ সদস্য ও সমর্থক হিসেবে ক্লাবের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন কুণাল ঘোষ।
হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও ময়দানের গুঞ্জন
কুণাল ঘোষ চিঠির শেষে উল্লেখ করেছেন যে, ২৫ মে, ২০২৬ তারিখের এই হোয়াটসঅ্যাপ বার্তাটিকেই যেন তাঁর চূড়ান্ত ইস্তফাপত্র হিসেবে গ্রহণ ও অনুমোদন করা হয়। তিনি সভাপতি দেবাশিস দত্ত এবং সচিব সৃঞ্জয় বোসের নেতৃত্বে মোহনবাগানের আরও সাফল্য কামনা করেছেন। রাজনৈতিক ও ভোটের মরশুমের পরেই তাঁর এই আচমকা পদত্যাগ নিয়ে ক্রীড়ামহলে নানাবিধ গুঞ্জন ও জল্পনা শুরু হলেও, ব্যক্তিগত কারণ দর্শিয়ে কুণাল ঘোষ নিজেই সেই জল্পনায় জল ঢেলেছেন। এই ইস্তফার ফলে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাঠামোতে সাময়িক শূন্যতা তৈরি হতে পারে। এখন সবুজ-মেরুন ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাঁর এই ইস্তফা গ্রহণ করবে নাকি তাঁকে পদ ধরে রাখার অনুরোধ জানাবে, সেটাই দেখার বিষয়।