শাহের মন্তব্যে নীরব পুলিশ, অভিষেকের বিরুদ্ধে সক্রিয়তা! নেপথ্যে কী বার্তা?

শাহের মন্তব্যে নীরব পুলিশ, অভিষেকের বিরুদ্ধে সক্রিয়তা! নেপথ্যে কী বার্তা?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে থানায় এফআইআর দায়ের করতে গিয়ে খালি হাতে ফিরতে হলো এক অভিযোগকারীকে। বিধাননগরের সাইবার ক্রাইম বিভাগে পরপর দুদিন গিয়েও পুলিশ অভিযোগ নেয়নি বলে জানিয়েছেন মানস সেন চৌধুরী নামের ওই ব্যক্তি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যেখানে পুলিশ মামলা গ্রহণে অনীহা দেখিয়েছে, ঠিক তেমনই এক উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের আবহে রাজ্যের রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

আইনের দ্বিমুখী নীতি ও জনসভার উস্কানি

অভিযোগকারী মানস সেন চৌধুরীর দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক প্রকাশ্য নির্বাচনী সভায় মন্তব্য করেছিলেন যে, রাজ্যের মা-মাটি-মানুষের সরকার ‘মোল্লা, মাদ্রাসা ও মাফিয়াতে’ পরিণত হয়েছে এবং তৃণমূলের গুন্ডাদের উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করে দেওয়া হবে। এই মন্তব্যকে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক ও আইন হাতে তুলে নেওয়ার হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখছেন ওই নাগরিক। তাঁর প্রশ্ন, একই থানায় একজন সাংসদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে এফআইআর দায়ের হতে পারলে, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। দেশের সংবিধান ও আইন সকলের জন্য সমান হওয়া উচিত বলেই তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের সূত্রপাত গত ২৭ এপ্রিলের একটি জনসভাকে কেন্দ্র করে। সেখানে তিনি বিজেপিকে কড়া ভাষায় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছিলেন, ৪ তারিখের পর এই জল্লাদদের বাঁচাতে দিল্লি থেকে কোন বাবা আসে, তা তিনি দেখে নেবেন। এই লাগামছাড়া হুঁশিয়ারির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত মামলা দায়ের করে।

রাজনৈতিক উত্তাপ ও আইনি প্রভাব

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে রাজনৈতিক দলগুলোর এই ধরণের আক্রমণাত্মক ও উস্কানিমূলক বক্তব্য ভোটারদের মেরুকরণ এবং রাজনৈতিক হিংসা ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। তবে এই ঘটনায় পুলিশের দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এদিকে এফআইআর দায়েরের পরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালত তাঁকে বড় স্বস্তি দিয়ে জানিয়েছে, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কড়া বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না এবং এই মুহূর্তে তাঁকে হেফাজতে নেওয়ারও কোনো প্রয়োজন নেই। আদালতের এই হস্তক্ষেপের ফলে রাজনৈতিক জলঘোলা সাময়িকভাবে কমলেও, নির্বাচনের মুখে উস্কানিমূলক মন্তব্যের এই আইনি লড়াই রাজ্য রাজনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *