জনশূন্য জঙ্গলে ভূতের আতঙ্ক, মালদার নতুন হোল্ডিং সেন্টারে কাঁপছেন অনুপ্রবেশকারীরা

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ধৃতদের রাখার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মালদা ও মুর্শিদাবাদে অবশেষে চালু হয়েছে বিশেষ হোল্ডিং সেন্টার। তবে এই কেন্দ্রটি চালুর পর থেকেই সেখানে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত ও রহস্যময় পরিস্থিতি। মালদার ইংরেজবাজারের কাজিগ্রামের এক পরিত্যক্ত চারতলা কর্মতীর্থ ভবনে আপাতত ৯ জন বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীকে রাখা হয়েছে। কিন্তু চতুর্দিক ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই জনশূন্য এলাকায় এখন দিন-রাত তাড়া করে বেড়াচ্ছে এক অজানা আতঙ্ক।
গা ছমছমে পরিবেশ ও ভূতের ভয়
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যে আবাসনটিতে এই হোল্ডিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। চারপাশ ঝোপঝাড়ে ঢেকে যাওয়ায় এলাকাটি এমনিতেই বেশ অন্ধকারাচ্ছন্ন। সেখানে বিষাক্ত সাপখোপের উপদ্রব তো রয়েছেই, তার ওপর যোগ হয়েছে অলৌকিক আতঙ্ক। সেন্টারে দায়িত্বে থাকা সিভিক ভলান্টিয়ার এবং ভেতরে আটকে থাকা বাংলাদেশী নাগরিকরা দাবি করছেন, দিন-দুপুরেও সেখানে অদ্ভুত সব আওয়াজ ভেসে আসছে। কারা যেন সারাদিন ভবনের আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অথচ কাউকেই চোখে দেখা যাচ্ছে না। এই তীব্র ‘ভূতের ভয়ে’ এখন রীতিমতো বিনিদ্র রজনী কাটছে সেন্টারের বাসিন্দাদের।
সুরক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
এই ঘটনার ফলে ওই হোল্ডিং সেন্টারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আটকে থাকা ব্যক্তিদের মানসিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রথমত, সীমান্তে কড়া নজরদারি এড়িয়ে যেভাবে কাঁটাতার টপকে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে, তা রুখতেই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে এই সেন্টার তৈরি, তা এখন ভূত-আতঙ্কের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। তীব্র আতঙ্কের কারণে সিভিক ভলান্টিয়াররা সেখানে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অন্যদিকে, ধৃত বাংলাদেশীদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত পাঠানোর আগে এই ধরণের ভীতিপ্রদ পরিবেশ তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।