শান্তিচুক্তির আবহেই হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন হামলা, ট্রাম্পের অনমনীয়তায় কি আরও রক্তক্ষয়ী হবে মধ্যপ্রাচ্য?

শান্তিচুক্তির আবহেই হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন হামলা, ট্রাম্পের অনমনীয়তায় কি আরও রক্তক্ষয়ী হবে মধ্যপ্রাচ্য?

কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান-আমেরিকা ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি সই হতে পারে, মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও-র এমন আশাপ্রদ দাবির রেশ কাটতে না কাটতেই উলটো ছবি দেখল গোটা বিশ্ব। মঙ্গলবার ভোরে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে ইরান রেভোলিউশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) নৌকায় আচমকা হামলা চালাল মার্কিন ফৌজ। এই ভয়াবহ হামলায় প্রাথমিকভাবে অন্তত চারজন ইরানি সেনার মৃত্যুর খবর মিলেছে। শান্তি আলোচনার মাঝপথে এই আকস্মিক সামরিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে আবারও চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল।

মাইন পোঁতার অভিযোগ ও আত্মরক্ষার যুক্তি

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না, বরং সম্পূর্ণ আত্মরক্ষার্থেই মার্কিন ফৌজকে এই পদক্ষেপ করতে হয়েছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে আইআরজিসির দু’টি নৌকা সমুদ্রের তলদেশে মাইন পোঁতার কাজ করছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই মার্কিন সেনা পালটা আঘাত হানে। একইসঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরানের বান্দার আব্বাস এলাকা থেকে মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে আক্রমণ শানানো হয়েছিল। তার জবাবেই মিসাইল ছুড়েছে আমেরিকা। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আপাতত এই হামলা পর্ব শেষ হয়েছে এবং এর সঙ্গে মূল শান্তি আলোচনার কোনো সরাসরি যোগ নেই।

ট্রাম্পের ‘ধীরে চলো’ নীতি ও অধরা শান্তি

গত রবিবারই মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থামাতে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছিল তেহরান। শান্তিচুক্তির শর্ত মেনে তারা ইউরেনিয়াম হস্তান্তরেও রাজি হয়েছিল। কিন্তু কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনমনীয় মনোভাব ও গড়িমসির কারণেই অধরা থেকে যাচ্ছে এই শান্তি। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি তাড়াহুড়ো না করে দীর্ঘ সময় নিয়ে এই চুক্তির দিকে এগোতে চান। একইসঙ্গে ইরানকে সম্পূর্ণ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের জন্য চাপও বাড়াতে থাকেন তিনি। ট্রাম্পের এই দীর্ঘসূত্রী নীতির মাঝেই হরমুজের এই হামলা স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও বিশ্ব বাণিজ্যে উদ্বেগ

এই হামলার ফলে তিন মাস ধরে চলা ইরান-আমেরিকা সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে যে শান্তিচুক্তি আসন্ন বলে মনে করা হচ্ছিল, তা বড়সড় ধাক্কা খেল। শান্তি বৈঠকের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারে পৌঁছেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রীসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। তবে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর তেহরান আলোচনার টেবিল থেকে পিছিয়ে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার। এছাড়া, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম প্রধান খনিজ তেল পরিবহন পথ হওয়ায়, এই এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের জোগান ব্যাহত হওয়া এবং বিশ্ব বাণিজ্যে বড়সড় অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *