অবৈধ অনুপ্রবেশের নেপথ্যে সক্রিয় বড় চক্র, মল্লিকপুরে বাংলাদেশি নারী গ্রেফতারের পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানার মল্লিকপুর এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি নারী অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত নারীর নাম লকিন তাতি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মাত্র কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ এবং ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করে কলকাতায় আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। এই ঘটনার পর রাজ্যে অনুপ্রবেশকারী ও তাদের সহায়তাকারী চক্রের সন্ধানে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে প্রশাসন।
সীমান্ত পারাপার ও ভুয়া পরিচয়পত্রের জাল
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে রাতের অন্ধকারে তিন হাজার টাকা খরচ করে নদী পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন ওই নারী। এরপর তিনি কলকাতায় চলে আসেন এবং সেখানে বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ শুরু করেন। কলকাতায় আশ্রয়ের পর বাংলাদেশেরই এক যুবকের সহায়তায় মাত্র দুই হাজার টাকার বিনিময়ে একটি ভুয়া আধার কার্ড তৈরি করে নেন তিনি। ধৃত নারীর দাবি, তাঁর স্বামী গত পাঁচ বছর ধরে এই রাজ্যেই বসবাস করছেন। এই ঘটনার সূত্র ধরে কলকাতায় সক্রিয় থাকা জাল পরিচয়পত্র তৈরি ও অনুপ্রবেশে সহায়তাকারী চক্রের বাকি সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ।
জেলায় জেলায় ধরপাকড় ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ
সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ছাড়াও মুর্শিদাবাদ সহ বিভিন্ন সীমান্ত জেলাগুলোতে অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেফতারের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি থানার বিদুপুর এলাকায় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে পুলিশ কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা ৭ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করেছে। এর মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে রানিতলা থানা এলাকা থেকেও তিনজনকে আটক করা হয়, যাদের কাছে ভারতে থাকার কোনো বৈধ নথিপত্র ছিল না।
রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন কঠোর নির্দেশিকা জারির পর এই তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে অনুপ্রবেশকারীদের সাধারণত সরাসরি জেলে পাঠানো হলেও, বর্তমান সরকারি গাইডলাইন অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ধৃতদের লালগোলার বিশেষ হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে। একের পর এক অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতারের ঘটনায় সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোর প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এবং নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।