অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পরই বদলে গেলেন ত্বিষা? স্বামীর জেরায় বিস্ফোরক দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য

অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পরই বদলে গেলেন ত্বিষা? স্বামীর জেরায় বিস্ফোরক দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য

মডেল তথা অভিনেত্রী ত্বিষা শর্মার রহস্যমৃত্যুর তদন্তভার হাতে নিয়েই তৎপরতা শুরু করেছে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা নতুন করে এফআইআর দায়ের করে তদন্তে নামতেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। এই মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত, ত্বিষার স্বামী সমর্থ সিং বর্তমানে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। দীর্ঘ ১০ দিন আত্মগোপন করে থাকার পর জব্বলপুর থেকে গ্রেফতার হওয়া সমর্থের বয়ান ঘিরে এখন দানা বাঁধছে নতুন রহস্য।

জেরায় তদন্তকারীদের কাছে সমর্থ দাবি করেছেন, গত ১৭ এপ্রিল ত্বিষা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকেই তাঁদের সম্পর্কে অবনতি শুরু হয়েছিল। গ্ল্যামার দুনিয়া ছেড়ে গৃহবধূর ভূমিকার সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারার কারণে ত্বিষার আচরণে পরিবর্তন আসে এবং দাম্পত্য কলহ তৈরি হয়। এমনকি এপ্রিল মাসে বেঙ্গালুরু ও অজমের সফর নিয়ে তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝি সম্পর্ককে আরও তিক্ত করে তোলে। ঘটনার রাতেও দুজনে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া ও টিভি দেখার পর, গভীর রাতে ছাদে ত্বিষাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বলে সমর্থের দাবি। তবে ঘটনার পর মোবাইল ফোন বন্ধ করে এক সপ্তাহ সমর্থের আত্মগোপন করে থাকার বিষয়টি তদন্তকারীদের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

পণ নির্যাতন ও খুনের অভিযোগ

ত্বিষার পরিবারের পক্ষ থেকে একে আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করা হয়েছে। সিবিআইয়ের এফআইআরে সমর্থের মা তথা প্রাক্তন জেলা বিচারক গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ, গত ডিসেম্বরে বিয়ের বিদায়লগ্নেই ২ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল এবং বিয়ের পর থেকেই পণের জন্য ত্বিষার ওপর লাগাতার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও পণনিষেধ আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু হলেও সিং পরিবারের দাবি, ত্বিষা মাদকাসক্ত ছিলেন।

তদন্তের সম্ভাব্য প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি

প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ‘অ্যান্টিমর্টেম হ্যাঙ্গিং’ বা জীবিত অবস্থায় ফাঁস লাগার কথা বলা হলেও, শরীরে আঘাতের চিহ্ন মেলায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। ফলে প্রমাণ লোপাটের আশঙ্কায় মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের নির্দেশে দিল্লির এইমসের বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করানো হচ্ছে, যা এই মামলার গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্ট সত্য উদঘাটনের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি দুই পরিবারকেই সংবাদমাধ্যমে অতিরিক্ত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছে। সিবিআইয়ের এই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খুব দ্রুতই এই চাঞ্চল্যকর মৃত্যুর নেপথ্যের আসল সত্য এবং দোষীদের ভূমিকা প্রকাশ পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *