১৩ দিনে ২৭ হাজার টাকা সস্তা রুপো, আজ কলকাতার বাজারে এক ধাক্কায় দাম কমল সোনারও, জানুন নতুন দর

১৩ দিনে ২৭ হাজার টাকা সস্তা রুপো, আজ কলকাতার বাজারে এক ধাক্কায় দাম কমল সোনারও, জানুন নতুন দর

আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির জেরে সাম্প্রতিক আকাশছোঁয়া বৃদ্ধির পর অবশেষে ভারতীয় বাজারে বড়সড় স্বস্তি দিল সোনা ও রুপোর দাম। মঙ্গলবার মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) লেনদেন শুরু হতেই মূল্যবান এই দুই ধাতুর দামে তীব্র পতন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে রুপোর দামের পতন সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের চমকে দিয়েছে। গত ১৩ দিনে কেজি প্রতি রুপোর দাম কমেছে প্রায় ২৭,০০০ টাকা। রুপোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আজ কলকাতার বাজারেও সোনার দাম বেশ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

রেকর্ড উচ্চতা থেকে ব্যাপক পতন

বাজার সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সরকার আমদানি শুল্ক বাড়ানোর পর গত ১৩ মে এমসিএক্স-এ রুপোর দাম হঠাৎ ৩ লক্ষ টাকা পার করে গিয়েছিল। তবে এরপর থেকেই বাজারে সংশোধন শুরু হয়। গত ১৩ দিনে রুপোর ফিউচার দর ৩,০০,২৩৮ টাকা থেকে কমে ২,৭২,২৬৫ টাকায় নেমে এসেছে, যার অর্থ কেজি প্রতি দাম কমেছে ২৭,৯৭৩ টাকা। মঙ্গলবার বাজার খুলতেই এক ধাক্কায় রুপোর দাম ৪,৪৫১ টাকা পড়ে যায়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রুপো প্রতি কেজি ৪,৫৭,৩২৮ টাকার সর্বকালের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছিল। সেই তুলনায় বর্তমানে রুপো কেজি প্রতি ১,৮৫,০৬৩ টাকা সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে।

রুপোর পাশাপাশি স্বস্তি মিলেছে সোনার দামেও। এমসিএক্স-এ ২৪-ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫৮,১০০ টাকায় নেমে এসেছে, যা আগের দিনের সর্বোচ্চ দাম ১,৫৯,০৮১ টাকা থেকে কম। গত ১৩ মে সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে সর্বোচ্চ ১,৬২,১৮৬ টাকায় পৌঁছেছিল, যা এখন ৪,০৮৬ টাকা হ্রাস পেয়েছে। নিজের সর্বকালীন রেকর্ড উচ্চতা ২,০২,৯৮৪ টাকা থেকে সোনা এখন প্রতি ১০ গ্রামে ৪৪,৮৮৪ টাকা সস্তা।

কলকাতার বাজারে আজকের দর

মঙ্গলবার কলকাতার স্থানীয় বাজারেও সোনা ও রুপোর দাম কিছুটা কমেছে। কলকাতায় আজ ২৪ ক্যারেট ১০ গ্রাম সোনার দাম ১,৫৮,৮৯০ টাকা, যা গতকালের তুলনায় ৪৯০ টাকা কম। গহনা তৈরির উপযুক্ত ২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম সোনার দাম ৪৫০ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১,৪৫,৬৫০ টাকায়। এছাড়া ১৮ ক্যারেট ১০ গ্রাম সোনার দাম ৩৭০ টাকা কমে ১,১৯,১৭০ টাকায় বিকোচ্ছে। আজ কলকাতায় রুপোর দাম প্রতি গ্রাম ২৮৫ টাকা এবং প্রতি কিলোগ্রাম ২,৮৫,০০০ টাকা ধার্য হয়েছে।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি স্তরে আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির পর বাজারে যে আকস্মিক ও অতিমূল্যায়িত বৃদ্ধির বুদবুদ তৈরি হয়েছিল, বিশ্ববাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার ভারসাম্যের কারণে তা এখন থিতু হতে শুরু করেছে। মূলত ফিউচার মার্কেটে মুনাফা বুকিং এবং আন্তর্জাতিক স্তরে মার্কিন ডলারের গতিপ্রকৃতির কারণেই এই সংশোধন দেখা যাচ্ছে। মে মাসের শুরুতে দাম যেভাবে বাড়ছিল, এই পতন সাময়িকভাবে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের স্বস্তি দেবে এবং বিয়ের মরশুমের আগে খুচরো বাজারে গহনার চাহিদা ফের চাঙ্গা করতে সাহায্য করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *