জাহাঙ্গির খানকে আত্মসমর্পণের সাফ নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে পরাজয়ের পর এবার আইনি লড়াইয়েও বড়সড় ধাক্কা খেলেন তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান। ভোটের আগে নিজেকে ‘পুষ্পা’ চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করে আলোচনায় আসা এই নেতার অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচের মেয়াদ আর বাড়াতে রাজি হলো না আদালত। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চের বিচারপতি পার্থসারথী সেন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জাহাঙ্গির খানকে অবিলম্বে আত্মসমর্পণ করে পুলিশের তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে।
আইনি রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের কারণ
ফলতা থানায় জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে দুটি সুনির্দিষ্ট এফআইআর দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই ভোটের আগে প্রার্থী হিসেবে তাকে আইনি রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল, যার মেয়াদ ছিল আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত। ভোটের ফলাফল গত রবিবার প্রকাশিত হয়ে যাওয়ায় এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া মিটে যাওয়ায় আদালত এই সুরক্ষার মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকৃতি জানায়। শুনানির সময় আদালত প্রশ্ন তোলে, প্রার্থী হিসেবে যে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, ভোট মিটে যাওয়ার পর তা কেন বজায় থাকবে। জাহাঙ্গিরের আইনজীবী মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, অভিযোগের সত্যতা যা-ই হোক না কেন, আইনি প্রক্রিয়া মেনে তদন্তের মুখোমুখি হতেই হবে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
এই রায়ের ফলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় বদল আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গির খানের এই আইনি বিপত্তি স্থানীয় তৃণমূল শিবিরের জন্য বেশ অস্বস্তিকর। নির্বাচনে হারের পর এই আইনি ধাক্কা তার রাজনৈতিক ক্ষমতা ও অনুগামীদের মনোবল অনেকটাই কমিয়ে দেবে। অন্যদিকে, আদালতের এই কড়া অবস্থানের কারণে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর পুলিশের নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত হবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়বে।