সেলের জমিতে চলল বুলডোজার, ভাঙল তৃণমূল ও সিপিএমের কার্যালয়!

বার্নপুরের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড বা সেলের জমি দখলমুক্ত করতে মঙ্গলবারও চলল ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিশাল পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে এদিন সকাল থেকেই ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের রাঙাপাড়া এলাকায় বুলডোজার চালায় ইন্ডিয়ান আয়রন অ্যান্ড স্টিল কো ম্পা নি বা আইএসপি কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবারের অভিযানে শুধু রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ই নয়, বাম দল সিপিএমের কার্যালয় এবং একটি অবৈধ পার্কিং লটও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা শিল্পাঞ্চলে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
উচ্ছেদের কারণ ও রাজনৈতিক বিতর্ক
সেলের জমি বেআইনি দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করতেই এই মেগা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত পাঁচদিনে শাসকদল তৃণমূলের মোট ৭টি বেআইনি কার্যালয় ভাঙা পড়েছিল, যা মঙ্গলবারও অব্যাহত থাকে। তবে এদিন উচ্ছেদ অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ হয় সিপিএম কার্যালয় ও তাদের মদতে চলা একটি অবৈধ পার্কিং লট গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায়।
এই উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলির বিরোধ প্রকাশ্য এসেছে। সিপিএমের প্রাক্তন কাউন্সিলর সুবোধ সিং এই অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ২০০৬ সালে কারখানার প্রাচীর নির্মাণের সময় তৎকালীন উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের লিখিত অনুমতি ও ‘নোটশিট’-এর ভিত্তিতেই ওই গ্যারেজ তৈরি হয়েছিল, যেখানে স্বয়ং কো ম্পা নি লোহার অ্যাঙ্গেল-সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়েছিল। কোনও নোটিস ছাড়াই এই ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে বামেদের অভিযোগ। যদিও সেল কর্তৃপক্ষের দাবি, নিয়মানুযায়ী উচ্ছেদের সমস্ত আইনি নোটিস আগেই জারি করা হয়েছিল।
উন্নয়নের প্রত্যাশা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে বার্নপুর শিল্পাঞ্চলে বড়সড় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় মহিলা কাউন্সিলর এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। তাঁর বক্তব্য, কারখানা কর্তৃপক্ষ তিনদিন আগেই তাঁদের অফিস খালি করার নোটিস দিয়েছিল। সেল যদি নিজেদের জমি উদ্ধার করে সেখানে প্রকৃত উন্নয়নমূলক কাজ করতে চায়, তবে তাতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই।
প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের পর স্থানীয় স্তরে দাবি উঠছে, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ জমি যেন পুনরায় কোনও রাজনৈতিক দল বা ভূমাফিয়ারা দখল করতে না পারে। আইএসপি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আগামী দিনগুলিতেও সেলের জমি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করতে এই বুলডোজার অভিযান জারি থাকবে। এর ফলে আগামী দিনে শিল্পাঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং জমিগুলি রক্ষণাবেক্ষণ করাই প্রশাসনের কাছে মূল চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।