উইকিপিডিয়ায় নামের পাশে ‘গ্যাংস্টার’ তকমা, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসকে ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা!

উইকিপিডিয়ায় নামের পাশে ‘গ্যাংস্টার’ তকমা, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসকে ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা!

সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে পরাজয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন বিতর্কে জড়ালেন বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাস। এবার বিশ্বখ্যাত অনলাইন মুক্ত বিশ্বকোষ ‘উইকিপিডিয়া’-তে তাঁর পরিচয় এবং পেশা বদলে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এই ডিজিটাল বিকৃতির স্ক্রিনশট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্য রাজনীতিতে।

নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রের কাছে ৩০ হাজার ৪৭০ ভোটে পরাজিত হন খোকন দাস। এই পরাজয়ের পরপরই উইকিপিডিয়ার ইংরেজি সংস্করণে তাঁর প্রোফাইলে বড়সড় রদবদল চোখে পড়ে। সেখানে খোকন দাসকে ‘Indian gangster’ এবং তাঁর পেশার জায়গায় ‘Politician, Gangster’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই পাতটিতে তাঁর বিরুদ্ধে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং দাঙ্গা ছড়ানোর মতো একাধিক গুরুতর অপরাধমূলক মামলার ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।

ডিজিটাল তরজা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়েছে। বিজেপির স্থানীয় নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রের দাবি, উইকিপিডিয়ায় যে তথ্য উঠে এসেছে তা সম্পূর্ণ সত্য এবং এর মাধ্যমে খোকন দাসের রাজনৈতিক উত্থানের পেছনের আসল রূপটিই উন্মোচিত হয়েছে।

পালটা জবাবে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। শাসক দলের দাবি, উইকিপিডিয়া একটি ওপেন সোর্স প্ল্যাটফর্ম হওয়ার সুযোগ নিয়ে খোকন দাসের নির্বাচনী পরাজয়ের পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই কাজ করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই বিরোধী পক্ষ তাঁর ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার এই কৌশল নিয়েছে।

প্রভাব ও আইনি জটিলতার আশঙ্কা

উইকিপিডিয়ার মতো একটি বহুল পঠিত মাধ্যমে কোনো জনপ্রতিনিধির প্রোফাইল এভাবে বিকৃত করার ঘটনাটি খোকন দাসের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং সামাজিক ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইন্টারনেটের যুগে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ায় তা জনমানসে ভুল বার্তা দেয়। মুক্ত বিশ্বকোষের এই তথ্য বিকৃতির নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে এখনো তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি স্পষ্ট না হলেও, পুরো বিতর্কটি নিয়ে খোকন দাসের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *