হিন্দ-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ অংশীদারিত্বের প্রয়োজন, কোয়াড বৈঠকে বার্তা জয়শঙ্করের

বিশ্বের বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হলো কোয়াড (Quad) রাষ্ট্রগোষ্ঠীর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক। মঙ্গলবার আয়োজিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এবং জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি। হিন্দ-প্রশান্ত (ইন্ডো-প্যাসিফিক) মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক আগ্রাসন ও আধিপত্য বিস্তারের উদ্বেগের মাঝেই এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো।
কৌশলগত বিশ্বাস ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান
বৈঠকের উদ্বোধনী ভাষণে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর হিন্দ-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য সদস্য দেশগুলির মধ্যে একটি “নির্ভরযোগ্য এবং স্বচ্ছ” অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক স্তরে আমাদের সাপ্লাই চেইনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার বাধা দূর করা, উৎপাদন ও সম্পদের কেন্দ্রীকরণ এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর খামতিগুলি দূর করার দিকে নজর দিতে হবে। সুনির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম না করে জয়শঙ্কর স্পষ্ট জানান যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক বিকল্পগুলিকে উৎসাহিত করা এবং পারস্পরিক কৌশলগত বিশ্বাস বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। মুক্ত ও উন্মুক্ত সামুদ্রিক গণতন্ত্রের স্বার্থে কোয়াডকে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করতে হবে।
হরমুজ সংকট ও আন্তর্জাতিক জলপথের স্বাধীনতা
বৈঠকে অংশ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং কোয়াড জোটকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার আহ্বান জানান। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের জেরে তৈরি হওয়া হরমুজ প্রণালীর সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে যে মুক্ত নৌ চলাচলের স্বাধীনতা (Freedom of Navigation) কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখতে কোয়াডের সমস্ত সদস্য দেশকে যৌথভাবে মেরিটাইম নজরদারি বা সামুদ্রিক নজরদারি আরও বাড়াতে হবে।
অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেন যে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক ঘটনাবলীর কারণে কোয়াডের প্রাসঙ্গিকতা আগের চেয়ে অনেক গুণ বেড়ে গেছে। তাঁর মতে, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জটিল সমস্যা—যেমন জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং খনিজ সম্পদের সরবরাহ বজায় রাখার মতো ক্ষেত্রগুলিতে কোয়াড অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।
এক ঝলকে
- নতুন দিল্লিতে ভারতের সভাপতিত্বে কোয়াড (Quad) ভুক্ত চার দেশের (ভারত, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মেগা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
- হিন্দ-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সদস্য দেশগুলির মধ্যে নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ অংশীদারিত্বের বার্তা দিলেন এস জয়শঙ্কর।
- ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে সৃষ্ট হরমুজ সংকটের কথা স্মরণ করিয়ে আন্তর্জাতিক জলপথে মুক্ত নৌ চলাচলের স্বাধীনতার ওপর জোর দিলেন অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
- জ্বালানি নিরাপত্তা, সামুদ্রিক নজরদারি এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনকে সুরক্ষিত করতে কোয়াডকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে সহমত পোষণ করলেন মার্কিন ও জাজল পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।