৪ মাসের ব্যবধানে ফের জেলমুক্তি, বিতর্ক উসকে ৩০ দিনের ছুটিতে ডেরা প্রধান রাম রহিম!

গুরুতর অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও ডেরা সচ্চা সৌদার প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের ঘন ঘন জেলমুক্তি নিয়ে আবারও তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৪০ দিনের ছুটির পর, মাত্র চার মাসের ব্যবধানে ফের ৩০ দিনের ছুটি মঞ্জুর হয়েছে এই স্বঘোষিত ধর্মগুরুর। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছয়টা নাগাদ হরিয়ানার রোহতকের সুনিয়া জেল থেকে কড়া নিরাপত্তায় বের হয়ে সিরসায় নিজের ডেরার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
২০১৭ সালে আশ্রমের ভেতরে দুই শিষ্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে নিম্ন আদালতে ২০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন ৫৭ বছর বয়সী রাম রহিম। এছাড়া ২০০২ সালে ডেরার রাজ্য কমিটির সদস্য রণজিৎ সিং খুনের মামলাতেও তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন, যদিও গত মে মাসে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্ট তাঁকে সেই মামলা থেকে খালাস দেয়। বর্তমানে খাতায়-কলমে জেলবন্দি থাকলেও সরকারের বিশেষ আনুকূল্যে তাঁর জেলের বাইরে থাকার মেয়াদ নিয়ে নানা মহলে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।
পাঁচ বছরে ৩২৬ দিন জেলের বাইরে
সাধারণ বন্দিরা যেখানে পর্যাপ্ত কারণ দেখিয়েও প্যারোল পেতে সমস্যায় পড়েন, সেখানে রাম রহিমের ক্ষেত্রে নিয়ম যেন অনেকটাই শিথিল। ২০২০ সালে কারাবাসের পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৬ বার জেল থেকে ছুটি পেয়েছেন তিনি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই পাঁচ বছরে তিনি মোট ৩২৬ দিন প্যারোলে মুক্ত ছিলেন। গত বছরের জানুয়ারি, এপ্রিল ও আগস্ট মাসে দফায় দফায় প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও ৪০ দিনের ছুটি কাটান তিনি। সেই মেয়াদ শেষের মাত্র চার মাসের মাথায় আবারও ৩০ দিনের ছুটি মঞ্জুর হলো তাঁর।
ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাম রহিমের এই ধারাবাহিক প্যারোলে মুক্তির পেছনে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থানের সিরসা অঞ্চলে ডেরা প্রধানের অনুগামীদের বিশাল ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো এই ভোটব্যাঙ্ককে নিজেদের পক্ষে টানতেই ডেরা প্রধানকে এমন বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, একজন ধর্ষক ও গুরুতর অপরাধীর এভাবে বারবার জেলের বাইরে আসা বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে আমজনতার মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, বারবার এই বিশেষ ছাড় অপরাধীদের প্রতি প্রশাসনের নমনীয় মনোভাবকেই প্রকাশ করে, যা সামাজিক স্তরেও আইনশৃঙ্খলার প্রতি মানুষের আস্থা শিথিল করার আশঙ্কা তৈরি করছে।