ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ব্রাত্য শরিফ, আবারও স্পষ্ট হলো পাকিস্তানের আসল চালক সেনাপ্রধান মুনির!

ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ব্রাত্য শরিফ, আবারও স্পষ্ট হলো পাকিস্তানের আসল চালক সেনাপ্রধান মুনির!

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ফের চরম অস্বস্তির মুখে পাকিস্তান। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সাম্প্রতিক বিবৃতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি অবসানের লক্ষ্যে মুসলিমপ্রধান দেশগুলোকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ বা আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই প্রক্রিয়ায় বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের নাম নিলেও, সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছেন দেশটির নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে। এর ফলে ইসলামাবাদের বেসামরিক প্রশাসন যে আসলে সেনাবাহিনীর হাতের পুতুল, সেই রূঢ় সত্যটিই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আবারও প্রকাশ পেল।

সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি দীর্ঘ পোস্টে সপ্তাহান্তে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তাঁর আলোচনার তালিকা প্রকাশ করেন। সেখানে পাকিস্তানের কথা বলতে গিয়ে তিনি শুধুমাত্র সেনাপ্রধান মুনিরের নাম উল্লেখ করেন। অথচ খাতায়-কলমে এবং সাংবিধানিকভাবে পাকিস্তানের প্রশাসনিক প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ট্রাম্পের এই আচরণে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, ওয়াশিংটনের চোখে পাকিস্তানের প্রকৃত ক্ষমতার চাবিকাঠি কার হাতে রয়েছে।

পুতুল সরকার ও পর্দার পিছনের আসল নিয়ন্ত্রক

পাকিস্তানের রাজনীতি ও প্রশাসনে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ নতুন কিছু নয়। তবে ট্রাম্পের এই কূটনৈতিক বার্তা পাকিস্তানের বেসামরিক সরকারের দুর্বলতাকে বৈশ্বিক মঞ্চে নগ্নভাবে উন্মোচিত করেছে। এর আগেও গত এপ্রিলে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ থামাতে ইরানের কাছে ট্রাম্পের বিশেষ বার্তা নিয়ে গিয়েছিলেন আসিম মুনির। সেই সফরে বিমান থেকে নামার সময় রাষ্ট্রপ্রধানদের মতো সর্বোচ্চ বুলেটপ্রুফ নিরাপত্তা সংবলিত শিল্ড ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ট্রাম্পের বর্তমান বিবৃতিতে এটি আবারও প্রমাণিত হলো যে, নামমাত্র সংসদীয় ব্যবস্থা চালু থাকলেও পাকিস্তানের আসল ‘বস’ আসলে সেদেশের সেনাপ্রধানই।

আব্রাহাম চুক্তি ও পাকিস্তানের মহাসংকট

ট্রাম্পের এই প্রস্তাব পাকিস্তানকে এক চরম ভূ-রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ট্রাম্পের আহ্বান মেনে পাকিস্তানের মতো মুসলিমপ্রধান দেশ যদি আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, তবে তার অর্থ দাঁড়াবে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। ঐতিহাসিকভাবেই পাকিস্তান ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে এবং ইসরায়েলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। ফলে এই চুক্তি মেনে নিলে দেশের ভেতরেই তীব্র জনরোষের মুখে পড়তে হবে পাকিস্তানি নেতৃত্বকে। আর যদি তারা মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে আমেরিকার এই নতুন চাল ও অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার টানাপোড়েনে এক মহাসংকটে পড়েছে পাকিস্তান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *