ঝুঁকিপূর্ণ লেকটাউনের মেসির মূর্তি, রাতারাতি ভাঙার সিদ্ধান্ত থেকে সরল প্রশাসন

ঝুঁকিপূর্ণ লেকটাউনের মেসির মূর্তি, রাতারাতি ভাঙার সিদ্ধান্ত থেকে সরল প্রশাসন

কলকাতার লেকটাউনে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত ফুটবলার লিওনেল মেসির ৭০ ফুটের (৪৪ মিটার) বিশালাকার মূর্তিটি নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উদ্বোধনের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই স্থাপত্যটির বেহাল দশা প্রকাশ পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, প্রবল হাওয়ায় দুলছে এই বিশাল মূর্তি। যে কোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় সোমবার পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি আধিকারিক এবং লেকটাউন থানার পুলিশ যৌথভাবে এলাকা পরিদর্শন করেন।

কেন ভাঙা যাচ্ছে না মেসির মূর্তি?

প্রাথমিকভাবে প্রশাসন একটি বড় ক্রেন এনে মূর্তিটিকে অক্ষত অবস্থায় নামানোর পরিকল্পনা করেছিল। তবে মঙ্গলবার স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ ও পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের দ্বিতীয় দফার পরিদর্শনের পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয় প্রশাসন। বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, মূর্তিটির ভিত অত্যন্ত দুর্বল এবং এটিকে অক্ষত অবস্থায় নামানো একেবারেই আসাম্ভব। জোরপূর্বক নামাতে গেলে মূর্তিটি ভেঙে পড়তে পারে, যার ফলে সংলগ্ন রাস্তা, গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইওভার এবং ঢিলছোড়া দূরত্বে থাকা ঐতিহ্যবাহী ক্লক টাওয়ারের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূর্তির শিল্পী মন্টি পাল জানিয়েছেন, স্থাপত্যটি কোনো একক কাঠামো নয়, বরং আলাদা আলাদা অংশ জুড়ে তৈরি করা হয়েছে। ফলে এটিকে একবারে ভাঙা অত্যন্ত জটিল।

বিকল্প ভাবনায় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর চেষ্টা

ভিআইপি রোডের মতো ব্যস্ততম এলাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে আপাতত মূর্তিটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। তার পরিবর্তে আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার গভীর রাত থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মিস্ত্রিরা মূর্তিটি মেরামতের কাজ শুরু করেছেন। কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করে আপাতত মেরামত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এটিকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর উদ্যোগে তৈরি হওয়া এই স্মারকটির এমন জরাজীর্ণ দশা কেন হলো, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি এখন প্রশাসনের শীর্ষ অগ্রাধিকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *