পশ্চিমবঙ্গে তুঙ্গে জনগণনার প্রস্তুতি, গাফিলতি হলেই মিলবে জেল ও জরিমানা!

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও জোরকদমে শুরু হয়ে গেল দেশব্যাপী ২০২৭ সালের জনগণনার প্রস্তুতি। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্তরে প্রশাসনিক আধিকারিকদের জনগণনা অফিসার হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। গত ১৮ মে কলকাতা গেজেট এক্সট্রাঅর্ডিনারিতে প্রকাশিত এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজ্যের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন। সেই মতো এবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে দায়িত্ব বণ্টন করল স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর।
প্রশাসনিক স্তরে বড় দায়িত্ব বণ্টন
রাজ্য সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জেলা থেকে ব্লক স্তর পর্যন্ত আধিকারিকদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডিভিশনাল কমিশনারদের ডিভিশনাল সেনসাস অফিসার এবং জেলা শাসকদের প্রিন্সিপাল সেনসাস অফিসার করা হয়েছে। এছাড়া মহকুমা শাসক, বিডিও এবং পুরসভা স্তরের আধিকারিকদেরও নিজ নিজ এলাকার দায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত আধিকারিকেরা নির্দিষ্ট এলাকায় ভারতের জনগণনা ২০২৭ পরিচালনা ও তদারকি করবেন এবং প্রয়োজনে নতুন কর্মী নিয়োগ করতে পারবেন।
কড়া আইনি বার্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই বিশাল কর্মযজ্ঞে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ফাঁকি রুখতে নজিরবিহীন কড়া বার্তা দিয়েছে প্রশাসন। ১৯৪৮ সালের জনগণনা আইনের ১১ নম্বর ধারা উল্লেখ করে সাফ জানানো হয়েছে, কোনও আধিকারিক বা কর্মী যদি দায়িত্ব পালনে অস্বীকার করেন কিংবা কাজে বাধা সৃষ্টি করেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা জরিমানা এবং তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে সরকারি কর্মীদের মধ্যে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।