পুরনো মন্তব্যে এবার আইনি অস্বস্তি, ইদের মঞ্চে ‘গন্দা ধর্ম’ বিতর্ক নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

গত বছর ইদের মঞ্চে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা ‘গন্দা ধর্ম’ মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। ওই মন্তব্যের সূত্র ধরে এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়েরের আবেদন জানিয়ে শিলিগুড়ি সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিলেন এক আইনজীবী। অভিযোগকারীর দাবি, এই মন্তব্যের মাধ্যমে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ভাবাবেগে গভীর আঘাত করা হয়েছে।
শিলিগুড়ির আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় মঙ্গলবার সাইবার থানায় এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছর কলকাতার রেড রোডে ইদের বিশেষ মঞ্চ থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “আমি ওই গন্দা ধর্ম মানি না। ওই ধর্ম জুমলা পার্টি তৈরি করেছে।” অভিযোগকারীর দাবি, এই বক্তব্যের মাধ্যমে পরোক্ষে সনাতন হিন্দু ধর্মকেই ইঙ্গিত করা হয়েছিল, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আইনি পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
অভিযোগকারী আইনজীবী জানান, একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে এই ধরনের মন্তব্য শুধু বাংলার নয়, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অবশ্য শিলিগুড়ি সাইবার থানার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি এবং এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে কি না তাও স্পষ্ট নয়।
গত বছর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরপরই তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ বিরোধী শিবিরের নেতারা এই বক্তব্যের কড়া নিন্দা করেছিলেন। এবার আইনি অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর সেই পুরনো বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দিল।
ঘটনার প্রভাব ও দলের অন্দরের সুর
এই আইনি পদক্ষেপের পর তৃণমূলের অন্দরেও অস্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। দার্জিলিং জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা আইনজীবী অত্রি শর্মা ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন এই ধরনের মন্তব্য করা উচিত হয়নি এবং দলের অনেকেই সে সময় ব্যক্তিগতভাবে এই বক্তব্য সমর্থন করেননি। তিনি আরও যোগ করেন, গণতান্ত্রিক দেশে অভিযোগ জানানোর নৈতিক অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৎকালীন শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক আগামী দিনে রাজনৈতিক ও আইনি উভয় ক্ষেত্রেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ওপর চাপ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই ধরনের পুরনো সংবেদনশীল ইস্যুগুলো নতুন করে আইনি রূপ পাওয়ায় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সমীকরণে এর বড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।