ওড়িশায় কি এবার বিরোধীশূন্য রাজনীতির সূচনা! দেবাশিসের দলত্যাগে জোর ধাক্কা নবীন শিবিরে

বঙ্গ বিজয়ের পর ওড়িশায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে অলক্ষ্যে এক মাস্টারপ্ল্যান সাজিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। লক্ষ্য একটাই—পূর্ব ভারতে সংঘ পরিবারকে অপ্রতিরোধ্য করে তোলা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওড়িশায় এখন কার্যত এক ‘অদৃশ্য অপারেশন লোটাস’ দানা বাঁধছে, যার জেরে রাজ্যটিতে বিরোধী দলগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে, দীর্ঘদিনের শাসক দল বিজু জনতা দল (বিজেডি) এখন এক নজিরবিহীন ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে।
তৃণমূল স্তরে ভাঙন এবং পট্টনায়েক শিবিরের অসহায়তা
বিজেডির সুপ্রিমো নবীন পট্টনায়েক শত চেষ্টা করেও নিজের দলের এই ভাঙন রুখতে পারছেন না। দলের শীর্ষ নেতাদের একের পর এক দলত্যাগ দলের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাকেই জনসমক্ষে নিয়ে আসছে। এই ধারাবাহিকতায় বড়সড় ধাক্কাটি এসেছে রাজ্যসভা এমপি দেবাশিস সামান্তারির ইস্তফার মাধ্যমে। পদত্যাগের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। হেভিওয়েট এই নেতার দলবদলের ফলে দিল্লির উচ্চকক্ষেও বিজেডির শক্তি এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গেল। রাজ্যসভায় এখন বিজেডির সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫-এ।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই আকস্মিক দলবদলের নেপথ্যে বিজেপির সুদূরপ্রসারী কৌশল কাজ করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ওড়িশার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর থেকেই বিজেপি রাজ্যে নিজেদের অবস্থানকে নিষ্কণ্টক করতে চাইছে। দেবাশিস সামান্তারির মতো শীর্ষনেতার বিজেপিতে অন্তর্ভুক্তি ওড়িশার আঞ্চলিক রাজনীতিতে বিজেডির রাশ আলগা করে দেবে। এর ফলে একদিকে যেমন রাজ্যে বিজেপির একক আধিপত্য আরও মজবুত হবে, অন্যদিকে তেমনই নীতি নির্ধারণ ও সংসদীয় রাজনীতিতে বিজেডি তাদের দরকষাকষির ক্ষমতা হারাবে। আগামী দিনগুলোতে এই ‘অপারেশন লোটাস’-এর তীব্রতা আরও বাড়লে ওড়িশা কার্যত সম্পূর্ণ বিরোধীশূন্য রাজ্যে পরিণত হতে পারে, যা রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দেবে।