লজ্জাজনক হারের পর তীব্র ক্ষোভ গিলের, গুজরাতের ফাইনালে ওঠার অঙ্ক এখন কঠিন

আইপিএল ২০২৬ এর প্রথম কোয়ালিফায়ারে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে ৯২ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার মুখে গুজরাত টাইটান্স। ধর্মশালার দ্রুতগতির আউটফিল্ড এবং ছোট বাউন্ডারির ফায়দা তুলে প্রথমে ব্যাট করে ২৫৪ রানের পাহাড় গড়েছিল বেঙ্গালুরু। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে মাত্র ১৬২ রানেই গুটিয়ে যায় গুজরাতের ইনিংস। টুর্নামেন্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এমন নতিস্বীকারের পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অধিনায়ক শুভমান গিল।
ক্যাচ মিসের মহড়া ও ফিল্ডিংয়ের ব্যর্থতা
গুজরাতের এই বড় ব্যবধানে হারের পেছনে বোলারদের থেকেও বেশি দায় রয়েছে তাদের জঘন্য ফিল্ডিংয়ের। ১৪তম ওভারে বেঙ্গালুরুর ব্যাটার রজত পাটিদার যখন মাত্র ১৮ রানে খেলছিলেন, তখন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের বলে প্রথমে কুলবন্ত খেজরোলিয়া এবং পরে একই ওভারে কাগিসো রাবাডা তাঁর ক্যাচ মিস করেন। দু’বার জীবনদান পেয়ে পাটিদার ৩৩ বলে ৯৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছিল নয়টি ছক্কা। ম্যাচের পর শুভমান গিল স্পষ্ট জানান, দলের ফিল্ডিং কোনো মানের মধ্যেই ছিল না এবং চাপের মুখে ক্রিকেটাররা সম্পূর্ণ খেই হারিয়ে ফেলেছিলেন। শেষ ৬ ওভারে ১১৪ রান দিয়ে ম্যাচটি কার্যত আরসিবি-র হাতে তুলে দেয় গুজরাতের বোলিং ও ফিল্ডিং বিভাগ।
টপ অর্ডারের ব্যর্থতা ও কোয়ালিফায়ার ২-এর চ্যালেঞ্জ
২৫৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ারপ্লে-র সঠিক ব্যবহার করতে পারেনি গুজরাত। অধিনায়ক শুভমান গিল নিজে দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফেরেন এবং জস বাটলারও ব্যর্থ হন। এরপর সাই সুদর্শনের রান আউট গুজরাতকে ম্যাচ থেকে সম্পূর্ণ ছিটকে দেয়। গিল মনে করেন, ধর্মশালার উইকেটে এই রান তাড়া করা আসাম্ভব ছিল না, কিন্তু টপ অর্ডারের ব্যর্থতা সেই সুযোগ কেড়ে নিয়েছে। প্রথম কোয়ালিফায়ারে হারলেও গুজরাতের ফাইনালের আশা এখনই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে তারা রাজস্থান রয়্যালস এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ম্যাচের জয়ী দলের মুখোমুখি হবে। তবে ফাইনালে পৌঁছাতে হলে ফিল্ডিংয়ের এই মারাত্মক খামতি ও চাপের মুখে ভেঙে পড়ার মানসিকতা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে হবে গুজরাতকে।