আফ্রিকায় ইবোলা উদ্বেগের ছায়া ভারতে, উগান্ডা ফেরত তরুণীকে ঘিরে বেঙ্গালুরুতে তীব্র চাঞ্চল্য!

আফ্রিকায় ইবোলা উদ্বেগের ছায়া ভারতে, উগান্ডা ফেরত তরুণীকে ঘিরে বেঙ্গালুরুতে তীব্র চাঞ্চল্য!

আফ্রিকাজুড়ে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রেক্ষাপটে ভারতেও তৈরি হয়েছে তীব্র সতর্কতা। সম্প্রতি উগান্ডা থেকে আহমেদাবাদ হয়ে বেঙ্গালুরুতে ফেরা এক ২৮ বছর বয়সী তরুণীর শরীরে প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তাঁকে দ্রুত সরকারি হাসপাতালের আইসোলেশনে নেওয়া হয়। পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজিতে (NIV) ওই তরুণীর রক্তের নমুনা পরীক্ষার পর অবশ্য স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে স্বাস্থ্য দপ্তর; তাঁর রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে এবং দেশে এখনও কোনো নিশ্চিত সংক্রমণের খবর মেলেনি।

সংক্রমণের কারণ ও বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান আতঙ্ক

বর্তমানে আফ্রিকায় মূলত ‘বুন্ডিবুগিয়ো’ প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা অত্যন্ত মারাত্মক ও প্রাণঘাতী হিসেবে পরিচিত। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থের সরাসরি সংস্পর্শে এলে এই রোগ ছড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গো ও উগান্ডায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা বর্তমান চিকিৎসা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ছাড়িয়ে গেছে এবং ইতিমধ্যেই সন্দেহভাজন মৃতের সংখ্যা ২২০ পার হয়েছে। এই তীব্র সংক্রমণের কারণেই মূলত আন্তর্জাতিক স্তরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

প্রতিরোধে ভারতের আগাম প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

ভারতে যাতে এই ভাইরাস কোনোভাবেই থাবা বসাতে না পারে, সেজন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক ও ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA) আন্তর্জাতিক উড়ানের ক্ষেত্রে কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে। কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদান থেকে আসা যাত্রীদের ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। যেহেতু ইবোলা ভাইরাসের সর্বোচ্চ ইনকিউবেশন পিরিয়ড ২১ দিন, তাই ওইসব দেশ থেকে আসা যাত্রীদের তিন সপ্তাহ পর্যন্ত নিজেদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দরে কড়া নজরদারি ও স্ক্রিনিং

সংক্রমণ ঠেকাতে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোকে মূল নজরদারি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে থার্মাল স্ক্রিনিং, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঘোষণা ফর্ম পূরণ এবং ভ্রমণের ইতিহাস খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের আইসোলেশনে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল বিমানবন্দরের স্ক্রিনিং দিয়ে সংক্রমণ শতভাগ আটকানো সম্ভব না হলেও, এর মাধ্যমে অসুস্থ যাত্রীদের দ্রুত শনাক্ত করা, কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং এবং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা সম্ভব, যা দেশে সম্ভাব্য মহামারীর ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *