নিটের পর এবার সিবিএসই, খাতা বদলের গুরুতর অভিযোগে উত্তাল দেশ!

নিটের পর এবার সিবিএসই, খাতা বদলের গুরুতর অভিযোগে উত্তাল দেশ!

জাতীয় স্তরের মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিটের প্রশ্ন ফাঁসের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের (সিবিএসই) দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা নিয়ে তৈরি হলো চরম বিতর্ক। এক পরীক্ষার্থীর খাতা অন্য পরীক্ষার্থীর মূল্যায়নের ভিত্তিতে নম্বর দেওয়ার মতো নজিরবিহীন দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। খোদ বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই ঘটনায় কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনা করে সরব হয়েছেন, যার ফলে গোটা দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে।

সামাজিক মাধ্যমে খাতা বদলের বিস্ফোরক তথ্য

বিতর্কের সূত্রপাত বেদান্ত নামের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রের সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট ঘিরে। পরীক্ষায় প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম নম্বর পাওয়ায় স্ক্রুটিনি ও পুনঃমূল্যায়নের জন্য নিজের পদার্থবিদ্যার খাতা দেখতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বোর্ডের পাঠানো খাতা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান বেদান্ত। খাতার হাতের লেখা সম্পূর্ণ অন্য কারোর ছিল, অর্থাৎ তাঁর রোল নম্বরের তকমা সেঁটে অন্য একজনের খাতা মূল্যায়ন করে তাঁকে নম্বর দেওয়া হয়েছিল। এই পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হওয়ার পর আরও অনেক পড়ুয়া একই ধরণের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে বোর্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তড়িঘড়ি পদক্ষেপ বনাম পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে সিবিএসই কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর বোর্ডের পক্ষ থেকে এটিকে একটি ‘যান্ত্রিক গাফিলতি’ হিসেবে মেনে নেওয়া হয়েছে এবং আপাতত দুই শিক্ষার্থীর নম্বর সংশোধন করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। তবে এই ঘটনায় সামগ্রিক মূল্যায়ন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। মাত্র দুইজনের নম্বর সংশোধন করা হলেও, এই একই ভুলের খেসারত আরও কত শিক্ষার্থীকে দিতে হচ্ছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ কীভাবে সুরক্ষিত হবে, তা নিয়ে গভীর ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব

এই ঘটনাটি কেবল শিক্ষাঙ্গনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। নিট কাণ্ডের পর সিবিএসই-র মতো বিশ্বাসযোগ্য সংস্থায় এমন ত্রুটি সামনে আসায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন যে, দেশের প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বোর্ডগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তোলা শিক্ষার্থীদের একাংশকে হেনস্থা করার পাল্টা অভিযোগও উঠেছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, একের পর এক জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় এই ধরণের অব্যবস্থা ও জালিয়াতির ঘটনা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। খাতা বদলের এই ঘটনা বোর্ডের অভ্যন্তরীণ নজরদারির বড়সড় গলদকে প্রকাশ করে দিল, যা আগামী দিনে কেন্দ্রীয় শিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে চরম সংকটের মুখে ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *