অভিষেকের বাড়ির সামনে এবার বুলডোজার, ‘শান্তিনিকেতন’ ঘিরে বাড়ছে রহস্য ও রাজনৈতিক টানাপড়েন

অভিষেকের বাড়ির সামনে এবার বুলডোজার, ‘শান্তিনিকেতন’ ঘিরে বাড়ছে রহস্য ও রাজনৈতিক টানাপড়েন

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দক্ষিণ কলকাতার বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। হরিশ মুখার্জি রোডের এই প্রাসাদোপম বহুতলটির সামনে পর পর দু’দিন পুলিশি তৎপরতা এবং তার পরেই আচমকা পুরসভার বুলডোজার এসে পৌঁছানোয় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ভেঙে দেওয়া হতে পারে এমন জল্পনা তৈরি হলেও, শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।

বিতর্কের কেন্দ্রে পুরসভার নোটিস ও বুলডোজার আতঙ্ক

কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বহুতলটি নির্মাণের ক্ষেত্রে মূল নকশার বাইরে গিয়ে বেশ কিছু অংশ ‘প্ল্যান-বহির্ভূত’ বা বেআইনিভাবে তৈরি করা হয়েছে। এই অভিযোগে পুরসভার তরফে একটি নোটিস পাঠানো হয়, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বেআইনি অংশটি ভেঙে না ফেললে পুরসভাই বুলডোজার দিয়ে তা গুঁড়িয়ে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এই নোটিস পাওয়ার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং বিজেপির নোংরা রাজনীতি বলে কটাক্ষ করেছেন।

এই টানাপড়েনের মাঝেই মঙ্গলবার বাড়ির সামনে পুরসভার একটি বুলডোজার এসে দাঁড়ালে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুরসভা ও স্থানীয় সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বাড়ি ভাঙার জন্য নয়, বরং হরিশ মুখার্জি রোডের উল্টো দিকের ফুটপাথের পুরনো পেভার ব্লক ও কংক্রিটের চাঙর তোলার একটি রুটিন কাজের জন্যই ওই বুলডোজারটি ব্যবহার করা হচ্ছিল। ফলে বাড়ি ভাঙার জল্পনায় সাময়িক স্বস্তি মিললেও রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্তই রয়েছে।

পুলিশি তৎপরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

বুলডোজার বিতর্কের ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ সোমবার অভিষেকের বাসভবনে একদল পুলিশ আধিকারিকের আকস্মিক আগমন ঘিরে নতুন রহস্য দানা বেঁধেছে। খাকি, সাদা এবং সাধারণ পোশাকে থাকা এই পুলিশ দলটি বাড়ি থেকে বেরনোর সময় একটি বড় মাপের এলইডি মনিটর নিয়ে যায়। এর আগেও নিরাপত্তা জনিত কারণে বসানো সরকারি স্ক্যানার যন্ত্র নিয়ম মেনে ফিরিয়ে নিয়েছিল পুলিশ। তবে পর পর দু’দিন পুলিশি নজরদারি এবং তার পরেই বুলডোজারের উপস্থিতিতে হরিশ মুখার্জি রোডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেমন জোরদার করা হয়েছে, তেমনই এই ঘটনা শাসক ও বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক পারদকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে যা আগামী দিনে কলকাতার স্থানীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *