দুর্গাপুরে নাবালিকাকে বর্বরতার চরম শাস্তি চাই, ধৃতদের ফাঁসির দাবিতে ফুঁসছে গোটা এলাকা!

শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে এক ১৪ বছরের নাবালিকাকে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অন্ডাল থানা এলাকার একটি নির্জন জায়গায় এই নৃশংশ অপরাধের ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই সোমবার এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এবং পুলিশি তৎপরতায় ওই রাতেই গ্রেফতার হয় দুই মূল অভিযুক্ত। ধৃতদের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সোচ্চার হয়েছে নির্যাতিতার পরিবার। মঙ্গলবারই ধৃতদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে তাদের ৬ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
নৃশংসতার বিবরণ ও পুলিশের তৎপরতা
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা নাগাদ বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ওই নাবালিকা। অভিযোগ, রাস্তা থেকেই তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় স্থানীয় অন্ডাল থানা এলাকার বাসিন্দা দুই যুবক। এরপর একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তার ওপর চরম নির্যাতন চালানো হয়। রাতে বাড়ি ফিরে নির্যাতিতা পরিবারকে বিষয়টি জানালে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় নেতৃত্বের সাহায্যে অন্ডাল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশি অভিযানে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যেই দুই অভিযুক্তকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয় প্রশাসন। বর্তমানে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ ও বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে অন্ডাল থানার পুলিশ।
পরিবারের দাবি ও এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ
এই ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নির্যাতিতা নাবালিকা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং সেখানে তার শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসা চলছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই হাসপাতাল ও পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে বয়ান নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে ধৃতরা ধরা পড়লেও ক্ষোভ প্রশমিত হচ্ছে না স্থানীয়দের। নির্যাতিতার দিদি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের ফাঁসির সাজা দাবি করেছেন। এলাকার বাসিন্দাদেরও স্পষ্ট মত, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই ধরণের ঘৃণ্য অপরাধ রুখতে ধৃতদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক যা ভবিষ্যতে নজির হয়ে থাকবে।