উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভায় নজিরবিহীন ধস, পুরপ্রধানসহ ১৫ কাউন্সিলরের পদত্যাগে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য

উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভায় শাসকদলের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতে এবার বড়সড় ভাঙন দেখা দিল। পুরপ্রধান মলয় ঘোষের পাশাপাশি একসঙ্গে ১৫ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করায় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে এই পুরসভাটি কার্যত তৃণমূল কংগ্রেসের একচ্ছত্র দখলে ছিল। সংগঠন এবং প্রশাসনিক স্তরে শক্ত ভিত থাকায় এলাকাটি শাসকদলের অন্যতম নিরাপদ দুর্গ হিসেবেই পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমান এই গণ-পদত্যাগের জেরে পুরসভাটি এখন গভীর রাজনৈতিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে।
ভিত্তি নড়বড়ে হওয়ার নেপথ্য কারণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক নির্বাচন। পুরসভার ২৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৭টিতেই শাসকদলের প্রার্থীরা পরাজিত হন, যা দলের অভ্যন্তরীণ সংগঠনকে বড় ধাক্কা দেয়। পুরপ্রধান মলয় ঘোষ সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, নির্বাচনে এই বিপর্যয়ের নৈতিক দায় নিয়েই তাঁরা পদত্যাগ করছেন। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিষয়টি কেবল নৈতিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে রয়েছে বিরোধী শিবিরের, বিশেষ করে বিজেপির রাজনৈতিক উত্থান। নির্বাচনের পর থেকেই দলের ভেতরে তীব্র চাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং মনস্তাত্ত্বিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, যা এই সংগঠিত পদত্যাগের রূপ নিয়েছে।
প্রশাসনিক সংকট ও দূরগামী প্রভাব
এই গণ-পদত্যাগের ফলে উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার প্রশাসনিক কাজকর্ম সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখনও যে কজন কাউন্সিলর পদে রয়েছেন, তাঁরাও আগামী দিনে একই পথে হাঁটতে পারেন বলে জোর জল্পনা চলছে। ফলে পুরসভার নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাবে, তা নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। বিরোধী নেতৃত্ব এই ঘটনাকে শাসকদলের প্রতি জনসমর্থন হ্রাসের প্রমাণ হিসেবে দেখলেও, তৃণমূলের পক্ষ থেকে এটিকে অভ্যন্তরীণ পুনর্বিন্যাস ও আত্মসমালোচনার প্রক্রিয়া বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উত্তর ব্যারাকপুরের এই অস্থিরতা কেবল একটি পুরসভাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর প্রভাব রাজ্যের অন্যান্য পুরসভা এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক মানচিত্রেও পড়তে পারে।