তৃণমূল নেতার বাড়ির গুদামে সরকারি ত্রাণের পাহাড়, হাতেনাতে ধরে লকআপে পুরল পুলিশ!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন অঞ্চলের পাথরপ্রতিমায় এক দাপুটে তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গরিব মানুষের হকের রেশনের চাল কিংবা আমফানের ত্রিপল চুরির পুরোনো ক্ষতে নতুন করে ঘি ঢেলেছে দূর্বাচটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এই ঘটনা। দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলায় অভিযুক্ত অঞ্চল সভাপতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রাতভর উত্তেজনা ও ‘অপারেশন গুদামঘর’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধৃত তৃণমূল নেতার নাম গৌতম আড়ি, যিনি দূর্বাচটি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি পদে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদ ও সরকারের বিভিন্ন দফতর থেকে আসা সুযোগ-সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছানোর ক্ষোভ জমছিল। গতকাল বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মীরা গোপন সূত্রে জানতে পারেন, সরকারি সামগ্রী অন্যত্র নয়, খোদ অঞ্চল সভাপতির বাড়ির গুদামেই মজুত রয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই লাঠিসোঁটা নিয়ে শয়ে শয়ে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী নেতার বাড়ি ঘেরাও করেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পাথরপ্রতিমা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ও ব্লক প্রশাসনের কর্তারা।
তালা খুলতেই চোখ কপালে কর্তাদের
গভীর রাতে পুলিশ ও বিডিও অফিসের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ওই সন্দেহভাজন গুদামঘরের তালা ভাঙা হয়। ঘরের দরজা খুলতেই তদন্তকারী আধিকারিকদের চোখ কপালে ওঠে। সেটি কোনো সাধারণ গৃহস্থের বাড়ি ছিল না, যেন আস্ত এক সরকারি সাপ্লাই ডিপো। সেখান থেকে উদ্ধার হয় শীতের কম্বল, পলিথিনের ত্রিপল, পান বরোজের জন্য বরাদ্দ সরকারি চট, মৎস্যজীবীদের জন্য আসা মাছের খাবার ও সরঞ্জামসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বিপুল সামগ্রী।
দুর্নীতির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকায় বারবারই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয় সাধারণ মানুষকে, যেখানে সরকারি ত্রাণই একমাত্র ভরসা। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাবকে কাজে লাগিয়েই এই ধরনের আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ঘটনার পর সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদের পক্ষ থেকে পাথরপ্রতিমা থানায় একটি লিখিত এফআইআর দায়ের করা হয়, যার ভিত্তিতে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ ও দুর্নীতির ধারায় গৌতম আড়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই ঘটনার প্রভাবে এলাকার রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় অনেকটাই চড়ে গেছে। বিজেপি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে ব্লক জুড়ে বড়সড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে, পঞ্চায়েত স্তরে ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টার মাঝে এই কেলেঙ্কারি জেলা তৃণমূল নেতৃত্বকে চরম অস্বস্তি ও লজ্জায় ফেলেছে। শাসকদলের পক্ষ থেকে আইন আইনের পথে চলার বার্তা দেওয়া হলেও, গরিবের হকের ধন চুরির এই ঘটনায় সুন্দরবনের আমজনতার মনে ক্ষোভের আগুন আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।