জোর করে দখল নয়! দিল্লি জিমখানা ক্লাব নিয়ে হাইকোর্টে পিছু হটল কেন্দ্র

জোর করে দখল নয়! দিল্লি জিমখানা ক্লাব নিয়ে হাইকোর্টে পিছু হটল কেন্দ্র

দিল্লি জিমখানা ক্লাব রক্ষা পেল জোরপূর্বক উচ্ছেদ থেকে, হাইকোর্টে বড়সড় স্বস্তি পেল ১১৩ বছরের প্রাচীন প্রতিষ্ঠান

লুটিয়েন্স দিল্লির ঐতিহাসিক ‘দিল্লি জিমখানা ক্লাব’ খালি করার কেন্দ্রীয় নোটিশের ওপর সাময়িক স্বস্তি মিলেছে। মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টে কেন্দ্র সরকার স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছে যে, আগামী ৫ জুনের মধ্যে ক্লাব চত্বর জোরপূর্বক দখল বা উচ্ছেদ করা হবে না। সরকারের এই আশ্বাসের পর ১১৩ বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, সাধারণ সদস্য এবং প্রায় ৬০০ কর্মীর মনে তৈরি হওয়া উচ্ছেদের তীব্র আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে গেছে।

আইন মেনেই পদক্ষেপ, আশ্বস্ত করলেন সলিসিটর জেনারেল

আদালতে শুনানির সময় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বিচারপতি অবনীশ ঝিঙ্গনের বেঞ্চকে জানান যে, ক্লাবের বিরুদ্ধে যেকোনো উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আইন মেনে এবং উপযুক্ত নোটিশ দেওয়ার পরই করা হবে। হঠাৎ করে কোনো জোরপূর্বক প্রবেশ বা উচ্ছেদ করা হবে না। সরকারের এই বক্তব্যের পর আদালত কেন্দ্র ও ক্লাব কর্তৃপক্ষকে সমন জারি করেছে এবং সদস্যদের করা উচ্ছেদবিরোধী পিটিশনের ওপর লিখিত জবাব তলব করেছে।

১৩ দিনের নোটিশে ছড়িয়েছিল তীব্র আতঙ্ক

গত ২২ মে কেন্দ্র সরকার এক নির্দেশে ক্লাব কর্তৃপক্ষকে মাত্র ১৩ দিনের মধ্যে প্রায় ২৭.৩ একর জমি খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো শক্তিশালী ও সুরক্ষিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে এই জমির প্রয়োজন। ক্লাবের সদস্যদের মতে, এই আকস্মিক নোটিশে ৯০ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা প্রবীণ সদস্য এবং এর ওপর নির্ভরশীল কর্মচারীদের মধ্যে চরম ভীতি তৈরি হয়েছিল। তবে আদালতের এই হস্তক্ষেপের পর সদস্যরা তাঁদের আইনি লড়াই গুছিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পেলেন।

এক ঝলকে

  • দিল্লি জিমখানা ক্লাবকে ৫ জুনের মধ্যে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হবে না বলে হাইকোর্টে জানাল কেন্দ্র।
  • সলিসিটর জেনারেল স্পষ্ট করেছেন যে, যেকোনো পদক্ষেপ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং নোটিশের মাধ্যমেই হবে।
  • কেন্দ্র আগে প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো মজবুত করার স্বার্থে ক্লাবের ২৭.৩ একর জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল।
  • আদালতের এই আশ্বাসে ক্লাবের প্রবীণ সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত সেনা এবং ৬০০ কর্মচারী সাময়িক স্বস্তি পেলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *