নাকছাবি পরায় ফিরবে ভাগ্য, জেনে নিন শাস্ত্র মতে নাকের কোন দিকটি সবচেয়ে শুভ

ফ্যাশনের দুনিয়ায় নাকছাবি বা নথের চল বহু প্রাচীন। একটা সময় শাড়ি বা সাবেকি পোশাকের সঙ্গেই এর ব্যবহার সীমাবদ্ধ থাকলেও, বর্তমান প্রজন্মের তরুণীরা জিন্স বা ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গেও অনায়াসে নাকছাবি পরছেন। তবে কেবল রূপচর্চা বা ফ্যাশনের অঙ্গ হিসেবেই নয়, সনাতন জ্যোতিষশাস্ত্রেও নাক ফোটানো এবং নাকছাবি পরার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। বিশেষ করে নাকের কোন দিকে নাকছাবি পরা উচিত, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে।
শুভ দিক ও শুক্র গ্রহের প্রভাব
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, নাকছাবি পরার জন্য নাকের বাঁ দিকটিই সবচেয়ে বেশি উপযোগী এবং শুভ বলে মনে করা হয়। শাস্ত্রমতে, মানুষের নাকের সঙ্গে শুক্র গ্রহের একটি সরাসরি সংযোগ রয়েছে। বাঁ দিকে নাক ফোটালে জন্মকুণ্ডলীতে শুক্র গ্রহের অবস্থান শক্তিশালী হয়। এর ফলে মানুষের জীবনে সুখ, শান্তি, আর্থিক সমৃদ্ধি এবং প্রেমের জোয়ার আসে। ডান দিকে নাকছাবি পরার ক্ষেত্রে শাস্ত্রে কোনো কড়া নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও, শ্রেষ্ঠ ফল পাওয়ার জন্য বাঁ দিকটি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
মানসিক ইতিবাচকতা ও নজরদোষ থেকে মুক্তি
শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, যে নারীরা নিয়মিত নাকছাবি পরিধান করেন, তাঁদের আবেগের ওপর চমৎকার নিয়ন্ত্রণ থাকে। এই গয়না নারীদের আত্মবিশ্বাস ও ধৈর্য শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে, যা তাঁদের অনেক বেশি ধীর-স্থির স্বভাবের করে তোলে। এছাড়া লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, নাকছাবি নেতিবাচক শক্তি বা নজরদোষ থেকে রক্ষা করতে ঢাল হিসেবে কাজ করে। এটি চারপাশের অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করে জীবনে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার ঘটায়।
ধাতু ও পাথরের নির্বাচন
নাকছাবির ক্ষেত্রে ধাতুর নির্বাচনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে রুপো বা কৃত্রিম ধাতুর নানা নকশার নাকছাবি পাওয়া গেলেও, শাস্ত্রে সোনার তৈরি নাকছাবি পরাকেই শ্রেষ্ঠ বলে অবিহিত করা হয়েছে। সোনা ধারণ করলে জীবনে সফলতা পাওয়ার পথ সুগম হয় এবং সাহস বৃদ্ধি পায়। আর যদি পাথর বসানো গয়না পছন্দ হয়, তবে হিরে, মুক্তো বা যেকোনো সাদা রঙের পাথর বেছে নেওয়া যায়, যা সৌন্দর্যের পাশাপাশি ভাগ্যকেও সুপ্রসন্ন করতে সাহায্য করে।