কাকলির পর এবার বেসুরো সুখেন্দুশেখর রায়! তৃণমূলের বিপর্যয়ের মাঝেই ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট বর্ষীয়ান সাংসদের

কাকলির পর এবার বেসুরো সুখেন্দুশেখর রায়! তৃণমূলের বিপর্যয়ের মাঝেই ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট বর্ষীয়ান সাংসদের

বারাসাতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পর এবার তৃণমূলের অন্দরে ‘বেসুরো’ সুর শোনা গেল দলেরই প্রবীণ ও শীর্ষস্তরের সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের কণ্ঠে। লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের শাসকদলের নজিরবিহীন শোচনীয় ফলাফলের আবহেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছেন তিনি, যা নিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আরজি কর আন্দোলন পর্বেই যিনি একাধিকবার দলের লাইনের বাইরে গিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন, তাঁর এই নতুন পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।

রোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাস টেনে তীব্র খোঁচা

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট শেয়ার করে তৃণমূলের এই বর্ষীয়ান রাজ্যসভার সাংসদ রোমান সাম্রাজ্যের পতনের ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে এনেছেন। সেখানে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অসহনীয় নৈরাজ্যের অবসান ঘটিয়েছেন।” রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কোনো রাখঢাক না রেখেই সুখেন্দুশেখর এই বার্তার মাধ্যমে রাজ্যে তৃণমূলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিপর্যয় এবং ভরাডুবি নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ও অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। দলের এই ফলের পেছনে যে একপ্রকার ‘নৈরাজ্য’ কাজ করছিল, তিনি যে পরোক্ষে সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বৃদ্ধি

বিগত দিনে আরজি কর কাণ্ডের সময় যখন গোটা রাজ্য আন্দোলনে উত্তাল ছিল, তখনও সুখেন্দুশেখর রায়কে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের দলেরই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা গিয়েছিল। তখন থেকেই দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল। এবার কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগদানের পর সুখেন্দুশেখরের এই প্রকাশ্য তোপ জোড়াফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি ও ফাটলকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

এক ঝলকে

  • কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পর এবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন দলের বর্ষীয়ান সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়।
  • সোশ্যাল মিডিয়ায় রোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাস টেনে তিনি লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অসহনীয় নৈরাজ্যের অবসান ঘটিয়েছেন।”
  • লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের শোচনীয় ফলাফলের পরই প্রবীণ এই নেতার এমন মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
  • আরজি কর আন্দোলন পর্ব থেকেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সুখেন্দুশেখরের দূরত্ব বাড়ছিল, যা এই পোস্টের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *