জিমখানা ক্লাব উচ্ছেদে পুলিশ ব্যবহার নয়, হাই কোর্টে জানাল কেন্দ্র

জিমখানা ক্লাব উচ্ছেদে পুলিশ ব্যবহার নয়, হাই কোর্টে জানাল কেন্দ্র

দিল্লির ঐতিহ্যবাহী জিমখানা ক্লাব উচ্ছেদ নিয়ে কেন্দ্র ও ক্লাব কর্তৃপক্ষের আইনি লড়াই এবার নতুন মোড় নিল। আগামী ৫ জুনের মধ্যে ক্লাব খালি করার যে নোটিস কেন্দ্র দিয়েছিল, তা নিয়ে দিল্লি হাই কোর্টে মামলা দায়ের হতেই কিছুটা নরম অবস্থান নিল মোদি সরকার। আদালতের শুনানিতে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, পুলিশ পাঠিয়ে বলপূর্বক বা জোর খাটানোর মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব দখল করা হবে না। তবে লিজ চুক্তির শর্ত মেনেই যাবতীয় আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

আইনি লড়াই ও কেন্দ্রের অবস্থান

কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের অধীনস্থ ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর গত ২২ মে জিমখানা ক্লাবকে ২৭.৩ একর জায়গা খালি করার নির্দেশ দেয়। কেন্দ্রের যুক্তি, দেশের রাজধানীর অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং কৌশলগত এলাকায় এই ক্লাবটি অবস্থিত। জনগণের নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনে এই জমির অধিকার সরকারের ফিরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্লাব কর্তৃপক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলে প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি সওয়াল করেন, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না দর্শিয়েই এই উচ্ছেদের নোটিস পাঠানো হয়েছে। হাই কোর্টের প্রশ্নের জবাবে সলিসিটর জেনারেল জানান, বলপূর্বক পদক্ষেপ না করে ক্লাবকে জমি খালি করার জন্য নতুন করে নোটিস দেওয়া হতে পারে এবং প্রয়োজনে অন্য কোথাও বিকল্প জমির ব্যবস্থা করার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করতে পারে।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সম্ভাব্য প্রভাব

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছাকাছি অবস্থিত এই জিমখানা ক্লাবটি ভারতের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরের পর ব্রিটিশ আধিকারিকদের বিনোদনের জন্য ১৯১৩ সালে এটি চালু হয়। দেশভাগের সময় হিন্দু, মুসলিম ও শিখ সেনা কর্মকর্তাদের বিদায়কালীন আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী এই ক্লাবটির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৪ হাজারেরও বেশি, যার মধ্যে রয়েছেন দেশের শীর্ষ আমলা, কূটনীতিবিদ ও সামরিক প্রধানেরা। ৫০০-র বেশি কর্মী এই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত। এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া কার্যকর হলে শুধু যে শতবর্ষ প্রাচীন এক ঐতিহ্যের অবসান ঘটবে তা-ই নয়, বিপুল সংখ্যক কর্মীর ভবিষ্যৎ এবং রাজধানীর একটি ভিভিআইপি জোনের নিরাপত্তা ও নগর পরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রশাসনিক বদল আসতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *