‘তাড়াতাড়ি পালাও, আমাদের অন্ন-বস্ত্র ওদের দেব কেন!’ অনুপ্রবেশকারীদের চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

‘তাড়াতাড়ি পালাও, আমাদের অন্ন-বস্ত্র ওদের দেব কেন!’ অনুপ্রবেশকারীদের চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অভিবাসীদের বাংলাদেশে ফেরার হুড়োহুড়ি এবং ভিড় বাড়ার ঘটনায় এবার অত্যন্ত কড়া বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুপ্রবেশকারীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন, এ রাজ্যে তাদের কোনো জায়গা হবে না এবং দ্রুত সীমান্ত পার হতে হবে। সম্প্রতি রাজ্যে অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃতদের রাখার জন্য জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশিকা জারি করেছে প্রশাসন। এই নতুন সরকারি ঘোষণার পরই সীমান্তের চেকপোস্টগুলোতে অবৈধ অভিবাসীদের তল্পিতল্পা গুটিয়ে ফিরে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে, যা বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

কড়া অবস্থানে প্রশাসন, কার্যকর হচ্ছে ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট নীতি

কল্যাণীতে আয়োজিত একটি প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি হাকিমপুর সীমান্তের প্রসঙ্গ টেনে এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সীমান্ত এলাকার ভিড়ের ছবি উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “জলদি জলদি ভাগো, তাড়াতাড়ি পালাও।” রাজ্যের নাগরিকদের অধিকার রক্ষা ও সম্পদের সঠিক বণ্টনের পক্ষে সওয়াল করে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, এ দেশের সাধারণ মানুষের খাবার, কাপড় কিংবা ওষুধ কেন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দেওয়া হবে।

প্রশাসন সূত্রে খবর, অনুপ্রবেশ রুখতে রাজ্যে কড়াভাবে ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতি কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই নীতির অধীনে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার পর আইনি দীর্ঘসূত্রতা বা আদালতের জটিলতায় না গিয়ে সরাসরি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মাধ্যমে পুশব্যাক বা সীমান্ত পার করে দেওয়ার ওপরেই জোর দিচ্ছে নতুন সরকার। ধৃতদের সাধারণ মানুষের করের টাকায় সরকারি হেফাজতে রেখে খাওয়ানোর সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধী বর্তমান শাসক দল।

সীমান্তে বাড়ছে চাপ এবং সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব

সরকারি কড়াকড়ির খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হাকিমপুর চেকপোস্টের কাছে ট্রলি, লোটা-কম্বল ও প্লাস্টিক নিয়ে বহু অবৈধ অভিবাসীকে ভিড় করতে দেখা গেছে। সীমান্ত পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই জটলা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাবকে নির্দেশ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সীমান্ত চোরাচালান, জালনোট ও অবৈধ অনুপ্রবেশের সিন্ডিকেটগুলোর ওপর বড়সড় ধাক্কা আসবে। জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির সিদ্ধান্ত অবৈধভাবে বসবাসকারীদের মনে আইনি ভীতি তৈরি করেছে, যার ফলেই এই স্বতঃস্ফূর্ত পলায়ন পর্ব শুরু হয়েছে। এই কঠোর নীতি দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের জনমিতি রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *